পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপনয়ন নয়। বৎসর বয়সে আমার উপনয়ন হয়, ঘটনাটি বেশ মনে পড়ে। কৰ্ণভেদ শিরোমুণ্ডন এগুলি যদিও ভাল লাগেনি। কিন্তু নাপিতের উপর বিদ্রোহাচরণ করেছিলুম বলে মনে হয় না । হবিন্যান্ন ভোজনে বেশ তৃপ্তি লাভ করতুম, ভালই হোক মন্দই হোক রোজকার ডালভাতের চেয়ে রুচিকর। ভিক্ষার বুলি কঁদে করে ‘ভিবতি ভিক্ষাং দেহি’ বলে উপবীতধারী ব্ৰহ্মচারী সাজ, তিন দিন ঘরে বন্ধ হয়ে থাকা-পাছে শুন্দ্রের মুখ দেখে ব্ৰাহ্মণত্ব নষ্ট হয়, এই চিরন্তন হিন্দুপ্ৰথা অনুসারে আমার পইতা হল। কারাবাস হতে মুক্তির পর ন্যাড়া মাথায় বাড়ীময় ঘুরে বেড়ানো আর সকলের কাছ থেকে ব্ৰহ্মচারী বলে অভিবাদন পাওয়া-মনে মনে কত গর্ব হচ্ছে-যেন আমি কি একটা ধনুর্ধর হয়েছি, অথচ ব্ৰহ্মচৰ্য কাকে বলে মানবক সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। ব্ৰহ্মচর্যের ব্যাখ্যা করে আমাদের পুরুতঠাকুর কোন উপদেশ দেন নাই। কেহ আমাদের বলে নাই, “আচাৰ্যাধীনে বেদমন্ধীস্ব’-আচাৰ্যাধীন হইয়া বেদাধ্যয়ন কর,-অথবা “অধীহি, ভোঃ সাবিত্ৰীং মে’-আমার নিকট গায়িত্রী শিক্ষা কর । ‘মা দিবা স্বাক্ষসীঃ”-দিবানিদ্রা যেয়ে না বলে আমাদের কেহ সাবধান করে দেয়নি, আমরা ও আরামের জিনিষটা অনেকদিন পর্যন্ত আঁকড়ে ধরেছিলুম। তিন দিন ঘরে বন্ধ থাকা যে দ্বাদশ বৎসর গুরুকুলে বেদাধ্যয়ন করা-তা আমরা বুঝি নাই—ব্রাহ্মণ-শুদ্রের মধ্যে যে জাতিগত পার্থক্য ( বৈদিককালে যেমন আৰ্য আর দত্ম্যর মধ্যে )। সেই ভেদবুদ্ধি ফুটিয়ে তোলা যদি ঐ নিয়মের উদ্দেশ্য হয়, সেটা সিদ্ধ হয়েছিল বলতে হবে। কতকগুলি সন্ধ্যার মন্ত্র আবৃত্তি করতে শিখেছিলুম তার মানে না বুঝে। এখন দেখছি যে শব্দগুলি আওড়াতুম তার অর্থ-বারিবীন্দন ।