পাতা:আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 নবীনবাবু ছিলেন দেবেন্দ্রসভার বিদূষক। তিনি আমাদের সকলকে নিয়ে খুব হাস্য পরিহাস করতেন। আমাকে ডাকতেন ‘পক্ষী’ বলে। তিনি কখনো কখনো আমাদের কোন মিষ্টান্নের ভাগ দিয়ে বলতেন—

অর্ধ রুটি যদি খায় ঈশ্বরের জন
তাহার অর্ধেক করে অন্যে বিতরণ।

কত পাগলামী ছড়া আওড়াতেন সব মনে নেই। দু-একটা বলি—

অজসা গরসা

দুই সাপ—এই কালীয়দমনের দুই সর্দার রাম ও শ্যাম—
ধন্য ধন্য রাম শ্যাম তোমাদের কার্য
তোমাদের কার্য সকলের অনিবার্য
যখন তোমরা গিয়া চড় যার ঘাড়ে
অজসা গরসা আদি সবে তারে ছাড়ে।
অজসা গরসা যেন ছাড়ল, এখন রামশ্যামের হাত থেকে রক্ষা করে কে?

সাপ ও বেঙের কথোপকথন

 সাপ—“জিহ্বা লিড়ি বিড়ি সিড়ি কিচড়ি মিচড়ি করি কুপ—” (আমি যদি কুপ করে তোকে খেয়ে ফেলি?)

 ব্যাঙ—“হম্ যদি পানিমে ডুব গয়া ভুসম ভুসড়ি খায়া গুজড়ি মুজরি করি গুপ—” (আমি যদি গুপ করে জলে ডুবে যাই?)

নবীনবাবু চার রকম ভিন্ন প্রকৃতি লোকের কথা বলতেন—

বেগবেগা, বেগচেরা, চেরবেগা, চেরচেরা,। স্মরণশক্তির তারতম্যে এই চার রকম লোক হয়।