পাতা:আমিষ ও নিরামিষ আহার প্রথম খণ্ড.djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


هلها পূজা বলিতে কল্পনায় দেবতার তুষ্টি সাধন । ইহা ঈশ্বরোপাসনার সমান আসন গ্রহণ করিতে পারে না । যেমন আমরা কোন পরলোকগত পূজ্য ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা বা ভক্তি করিয়া তাহার নামে কোন দ্রব্য উৎসর্গ করি, বৈদিক কালে ঋষিদিগের দেবপুজার কারণে হবি উৎসর্গও সেইরূপ । এই দেবপূজা হইতেই যজ্ঞের উৎপত্ত্বি । ভক্তি সহকারে দেবতার উদ্দেশে হবি উৎসর্গ হইতেই যজ্ঞের আবির্ভাব । ঋষির দেবতাদিগের নামে হবি যে উৎসর্গ করিবেন, তাহা কি উপায়ে করিবেন ? এই ভাবিয়া ঋষিরা তেজঃপূর্ণ অগ্নির সাহায্য লইলেন। মনুষ্য “উদ্ধমূল”, তাহার মনের গতি স্বভাবতঃ উদ্ধদিকে । দেবতার। অন্তৰ্হিত হইয়াছেন; ঋষিদিগের মনে প্রশ্নের উদর হইল, কোথায় গিয়াছেন ? উত্তর পাইলেন উৰ্দ্ধে । এই কারণে ঋষিরা দেবগণকে স্বৰ্গলোকে প্রতিষ্ঠিত করিলেন । দেবতারা যে উদ্ধে অবস্থিতি করিতেছেন ঋষিদিগের মনে তাহা আরও এক কারণে উদর হইতে পারে। দেবতারা উচ্চভূমি হিমালয়ের পাৰ্ব্বত্য প্রদেশ সমূহে বাস করিতেন, আর পরবর্তী বৈদিক যুগের ঋষির মৰ্ত্তভূমি ভারতের নিম্ন আর্য্যাবৰ্ত্তের অধিবাসী ছিলেন । হিমালয় অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর পাৰ্ব্বত্য প্রদেশের এক নামই স্বৰ্গ বা অমরধাম ছিল, আর মারীমরকান্ধান্ত জ্ঞা তের নিম্ন ভূমি আর্য্যবৰ্ত্তের নাম মৰ্ত্তভূমি ছিল। জৰ্ম্মন ভাষায় “হিম্মেল”(himmel) শব্দের অর্থই স্বৰ্গ । “হিম্মেল” যে “হিমালয়” শব্দের সংক্ষেপ তাহ অীর কাহাকেও বলিয়া দিতে হইবে না, ভাষার সাদৃশ্যবশতঃ ইহা সহজেই বুঝা যায়। হিমালয়ের উদ্ধে দেবগণের অবস্থানই যে ঋষিদিগের পূৰ্ব্বোক্ত কল্পনার বিশেষ সহায়তা করিরাছে তাহ বোধ হয়। স্বৰ্গস্থ দেবতাদিগের উদ্দেশে যে স্কৃত উৎসর্গ করা হইতেছে তাছাকেও উদ্ধে প্রেরণ করা চাই। কি উপায়ে হবি প্রেরিত হইবে?