পাতা:আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনা - প্রবীর ঘোষ.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গাছেরা কোন্ ঈশ্বরের ভজন-কীর্তন করে পুণ্যি করতে—কে জানে? আহারে, সদ্য অঙ্কুরিত ছোলাগুলো যখন খেয়ে ফেলি, তখন ছোলার অঙ্কুরগুলো বোধহয় একটুও পুণ্যি অর্জনের সুযোগ পায় না।

 আমাদের মানুষদের পাপ ধুয়ে ফেলার হরেক রকম বাবস্থা রয়েছে। অন্য জীবদের তীর্থ দর্শনের ও ঈশ্বর দর্শনের সুযোগ নেই। আহা-হা-রে-

 মনুষ্যেতর প্রতিটি জীবের মৃত্যুর পর শেষ পর্যন্ত শেষ বিচারের ব্যবস্থা না থাকলে, মানুষের ক্ষেত্রেই শুধু তা আছে—মানি কোন যুক্তিতে? আর, বিচার ব্যবস্থার অস্তিত্বই না থাকলে বিচারক (ঈশ্বর) কী করবেন?


কারণ: একচল্লিশ

ধর্ম কি ঈশ্বর বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত? ধর্মগ্রন্থের নির্দেশ মেনে চলাই কি সৎপথে চলা, মানবিক হয়ে ওঠার দিশা?

‘ধর্ম’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম’

আসলে 'ধর্ম' শব্দটাই বেশ গোল পাকায়। 'ধর্ম' শব্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষিতরাই সংস্কৃত ধৃ-ধাতুর উৎপত্তিগত অর্থকে টেনে আনেন। বলেন—যা আমাদের জীবনকে ধারণ করে তাই 'ধর্ম'। কিন্তু যা আমাদের জীবনকে ধারণ করে, তা দিয়ে কোনও ভাবেই ধর্ম কি—সে ধারণায় পৌঁছন যায় না। কারণ, অনেক কিছুই আমাদের জীবনকে ধারণ করে। আমাদের জীবন প্রথম যা ধারণ করে তা হল মাতৃগর্ভ বা টেস্টটিউব। আমরা কি মাতৃগর্ভ বা টেস্টটিউবকে ‘ধর্ম' বলব? প্রতি দিনকার খাদ্য-পানীয়ের দেওয়া পুষ্টি জীবনকে ধারণ করে। বাতাসের অক্সিজেন জীবনকে ধারণ করে। শিশুকালে পিতা মাতার সাহায্য-সহযোগিতা জীবনকে ধারণ করে। এভাবে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষা, শিক্ষক, প্রাকৃতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক পরিবেশ, সবই তো জীবনকে ধারণ করে রাখে এ'সবই কি ‘ধর্ম'? কিন্তু তা তো নয়।

 হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্ট ইহুদি ইত্যাদি প্রচলিত ধর্মগুলোকে বিশ্লেষণ করে ধর্মের ধারণা বা সংজ্ঞায় পৌঁছতে চাইলে আমরা কী পাব? বেদ, ভগবদগীতা, পুরাণে যে বহু সংখ্যক দেব-দেবীর কথা আছে, তাঁদের অস্তিত্বে বিশ্বাস এবং সেই সব দেব-দেবীদের খুশি করতে পুজো-ব্রত-যাগযজ্ঞ ইত্যাদির উপযোগিতায় বিশ্বাস ও আত্মার অমরত্ব, কর্মফল, ভাগ্য, ঈশ্বরদৃষ্ট বর্ণ বৈষম্য ইত্যাদিতে যিনি বিশ্বাস করেন ও মান্য করেন তিনিই হিন্দু। যাঁরা কোরানকে অপৌরুষেয়

১০৯