পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পকেটে হাত দিয়ে কি বের করার চেষ্টা করে থামালো। পায়ের শব্দটা এগিয়ে আসছে। অশোক এদিকের দরজাটা খুলে চকিতের মধ্যে অন্ধকারে বের হয়ে উঠোনের ওদিককার পাচিল টপকে ওপাশের সরু অন্ধকার গলি দিয়ে বের হয়ে গেল । বাসস্তবাবু চুপ করে দেখছেন ব্যাপারটা। তার জীবনেও এমনি ব্যাপার একাধিক বার ঘটেছিল, কিন্তু সেদিন তাদের আদর্শ ছিল ব্রতের মতই, নিষ্ঠার সঙ্গে সেটা পালন করতেন। আজ সাধারণ মানুষের চােখে ওরা শুধু আতঙ্কের ভাবমূর্তি গড়েই প্রাধান্য কুড়োতে চায়। মানুষের জন্য।--দেশের জন্য।--কোন আর্দশের জন্য শ্রদ্ধা নেই।--সাধনা নেই। তাই সব কিছুর মূল্যমান হারিয়ে গেছে, পর্যবসিত হয়েছে সব কিছু দুঃসহ বেদনার গ্লানিময় দৈন্যে। --দরজা খুলুন ! কারা দরজায় ধাক্কা ম্যাবছে। বোধহয় পুলিশের লোকই। সেদিন তেজস্বী বিপ্লবী বাসস্তবাবু আজ ভীতন্ত্রস্ত একটি প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। অমৃত দরজাটা খুলে দিতেই পুলিশের লোকজন এসে ঢুকল। কে প্রশ্ন করেন। --অশোক আছে ? ཕཁག་ལ་ཡབ་ཁཔ་ཚ} কে বলে—তাকে দেখলাম। এই দিকে দৌড়ে আসতে। অমৃত জানায়-খুজে দেখুন। এখানে সে আসে নি। -- নেই। ওরা এদিক ওদিক খুঁজে টর্চের আলো ফেলে অন্ধকার উলসেও কিছু পেলেন না। অশোক ত্ৰিসীমানাতেও নেই। সুধাময়ী সাবিত্রী চুপ কবে দাঁড়িয়ে আছে। ওরাই জানায়-ওদিকে কারখানার গেটে নাকি দাঙ্গা-—বোেম চার্জ করে ওরা এই দিকেই এসেছিল। দু’একজনকে ধরেছে পুলিশ, অশোকের কোনো পাত্তই পায় নি। ওরা চলে গোল শুধু হাতে । সুধাময়ীর মুখে ভয়ের বিবৰ্ণতা। হঠাৎ সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। bra