পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুলেখা বলে-ঠাট্ট নয় রে। এবার দেখবি মাসে দুটাে করে সিটিং ঠিক আসবে। আর দু-একটা টুইশানি করে দিচ্ছি। এখানে থাকলে ওগুলো করবি। স্কুলের কাজটা ছেড়ে দে। ওখানে যা দেয়। তার চেয়ে বেশী পাবি, তাছাড়া এখন গানের জগতে নাম করছিস-সম্মানের প্রশ্নও জড়িত রয়েছে। সাবিত্রীও কথাটা ভেবেছে। স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে না তার। কারণ ওই ছোট কাজটাকে সে ঘূণা করে না। ওটার থেকেই এত-খানি উপরে ওঠার পথ পেয়েছে সে, ওখানে যেতে চায় না। কারণ কাজল বাবুকেই এড়াতে চায় সে। কদিন আগেই ঘটনাটা ঘটেছিল। কাজলবাবু যেন কারণে—অকারণে তাকে ডেকে ফরমাইস করে। খাবার জল দাও। কফি আনো-সিগ্রেটও আনবে এক প্যাকেট গোল্ডফ্রেক। তার হাতে পাঁচ টাকার নোট তুলে দেয়। সাবিত্রীর অসহ্য মনে হয় কাজলের এই ভাবটা। ও তাকে চিনতে চায় না। ইচ্ছে করেই বরং অপমান করে। সাবিত্রীর মুখচোখ লাল হয়ে ওঠে। কাজলবাবু বলে-যাও। হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছো যে? সাবিত্রী প্রতিবাদ করতে গিয়ে পারে নি। কোন রকমে সিগ্রেট কফি এনে মুখ বুজে। ওর সামনে রাখে, টাকার চেঞ্জ ফেরৎ দিতে গেলে কাজল অনুকম্পাভরে বলে। —-ওটা তুমিই রাখে। সাবিত্রী অবাক হয়, মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়েছে (স এই ভেবে যে, কাজল ইচ্ছে করেই ওই টাকাগুলো তাকে যেন ভিক্ষে দিচ্ছে। এই ভিক্ষে নিতে সাবিত্রীর বাধে। সাবিত্রীর মুখটা কঠিন হয়ে ওঠে। অপমানে। দুঃসহ হয়ে ওঠে। এই অভিনয় । ও কিছু বলতে গিয়েই পারল না। কাজলবাবুর কথা শোনে নি এমনি ভাব দেখিয়ে চেঞ্জটা টেবিলের রেখেই চলে গেল। কাজলবায়ুও ওর এই নীরব প্রতিবাদটাকে দেখেছে। তবু হাসতে হাসতে সরল্যাদিকে বলে সে তাচ্ছিল্যাভরে। --আপনার লোকজন, মেয়ারা কিন্তু খুব অনেস্ট। বকশিশ দিতে গেলাম নিলে না। বোধহয় আত্মসম্মানে বাধে এখনও । সরলাদি বলে-তাই নাকি! ছিঃ ছিঃ! ওরা সব একদম রবিশ! ভদ্রলোককে অপমান করা হয় ওতে তা জানে না ? W