পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ট। সে এসে উস্কানি দিয়ে সিনেমায় অভিনয় করে নাম ও পয়সা রোজগারের জন্য ক্ষেপিয়ে দিয়েছিল মোহিনীকে । ভুবন চোখ কপালে তুলে বলেছিল, রাম রাম, ছিছি, ভদ্রঘরের মেয়েরা ওখানে যায় ? মোহিনীর ভাই কড়া সুরে বলেছিল, আমার বৌটা ভদ্রঘরের মেয়ে নয় । ভালভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টাও সে করেছিল। সিনেমা-জগতটাকে কদৰ্য্য করে রাখা হয়েছ সত্যি কিন্তু সেটা শুধু মাতাল আর বেশ্যাদের জগৎ নয়। টাকার চেয়ে কিছুই বড় নয়। সেখানে, মনুষ্যত্বের কেনাবেচা চলে। কিন্তু রূপ আর গুণেরও খানিকটা কদর আছে বৈকি ? কারিগর আর কঁচামাল ছাড়া তো কিছুই তৈরী হয় না। যতই সস্তা করা হোক ছবি, যতই চেষ্টা চলুক সস্তায় রূপ আর গুণ ভাড়া করার, রূপসী আর গুণীদের বাদ দিয়ে ছবি তোলা কৰ্ত্তাদের সাধ্য নয় । শুধু রূপও ওরা কেনে। রূপসী অভিনয় একেবারে না জানুক । ডায়ালগ বেশী নেই, অ্যাকসন বেশী নেই, রূপসী মেয়েটিকে এখানে ওখানে গুজে দিয়ে ছবি জমাবার সস্তা কায়দায় ওরা নিজেদের ওস্তাদ ভাবে । তার বৌকে কেন নিয়েছে সিনেমায় ? তার বৌ হাসিখুসীি সখির পার্ট খুব ভাল করতে পারে। তার বেশী সে কিছুই পারে না। শুধু নায়িকার হাসিখুসীি সখি হওয়া ! তিন ছেলের মা হল, তিন চার মাসের বাচ্চাটাকে তার হেফাজতে রেখে গিয়ে সে মহারাণীর চীফ সখির পার্টও করেছে। বিগড়ে সে যায়নি ? বরং তার অনেকগুলি ঘরোয়া দোষ কেটে গেছে।