পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দু’চুমুক মদ খেতে তার আতঙ্কের নিন্দ করে, কিন্তু অন্যান্য আরও সব লক্ষণ হয় তো তার চোখে পড়েছে । এমনিতে কানুর মত সাধারণ একজন মিস্ত্রীরা পৰ্য্যন্ত যা মনে হয়েছে, এতবড় একটা স্পেশালিষ্ট ডাক্তারের কাছে সেটা ধরা পড়ে যাবে বৈকি । কিন্তু হিষ্টিরিয়া ? সে কাতরভাবে বলে, তাহলে ওই যে মাথা ঘোরে বুক ধরফড় করে ঘুম হয় না-ওসব আমি ভাণ করি বলছেন। সারা ? ডাক্তার দত্ত হাসিমুখে বলে, তা কেন বলব ? ওগুলি তোমার অসুখের লক্ষণ । নিউরেসথেনিয়ায় –মানে স্নায়বিক দুর্বলতাতেও এসব লক্ষণ হয় বটে। কিন্তু মুখ দেখেই বলে দেওয়া যায় তোমার নার্ভস মোটেই উইকি নয়। হিষ্টিরিয়ার রোগের ভাণ করে, কিন্তু তোমার সেটা নেই। এই অসুখটারও রকমফের আছে তো, রোগী আর কারণের ওপর সেটা নির্ভর করে । তবু যেন কেশব মানতে পারে না তার হিষ্টিরিয়া হয়েছে। ন্যাকা মেয়েদের যে রোগ হয় । সে বলে, কিন্তু আমি তো কোনরকম পাগলামি করি না। সারা ? পাড়ার একটি বৌয়ের হিষ্টিরিরা আছে, মাঝে মাঝে ক্ষেপে গিয়ে ডাক্তার দত্ত বাধা দিয়ে বলে, বৌটির সঙ্গে তোমার তফাৎটা ভুলো না । সে হেসে কেঁদে গড়াগড়ি দিয়ে পাগলামি করে, তুমি অন্যভাবে কর ।

করি। সারা ? : নিশ্চয় কর ।
সেরে যাব তো ? : নিশ্চয় সেরে যাবে। তোমার অসুখের ব্যাপারটা মোটামুটি

> & o