পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কানুর মা চা দিয়ে যায়। বলে, চেয়ে দ্যাখো কাণ্ডখানা । লেখাপড়া শিখবে, অফিসে ভাল চাকরি করবে, সুখে থাকবে । তা নয়, লেখাপড়া শিকেয় তুলে সায়েব তাড়াতে গিয়ে জেল খাটা চাই। কি দরকার তোর সাহেব তাড়িয়ে ? চাকরিগুলো তো বানিয়েছে সায়েবরাই । লেখাপড় শেখ, একটা সায়েব নয়। তার পেয়ারের লোককে ধরে চাকরী বাগা । কথা যাই বলুক, যে মনোভাবই প্ৰকাশ পাক কথায়, দুর্ঘটনায় আহত ছেলের জন্য মায়ের দরদ আর বেদনাই উথলে বেরিয়ে আসছে টের পেয়ে তারা চুপ করে থাকে। কেশবের মনটাও নাড়া খায়। সেও চুপ করে শোনে। তবু তার মনে প্রশ্ন জাগে, এও কি হিষ্টিরিয়া ? কানুর মার এক চোখে ছানি পড়তে সুরু করেছে, চুপিসানো মুখে একটি দাতেরও বালাই নেই। কান্ত তার শেষ বয়সের শেষ ছেলে । আগের ছেলে মেয়েগুলি কোনটাকে আঁতুর থেকে কোনটাকে শৈশব कiब्ल भ d८न् नि८ C८छ् । চায়ে চিনি ঠিক হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করে কানুর মা আবার আবেগের সাঙ্গ সুরু করে, মরার সমর ওর বাপ বলে গিয়েছিল, ছেলেকে মানুষ কোরো, লেখাপড়া শিখিও । মৃত্যুশয্যায় মানুষটাকে কি বলেছিলাম জানিস বাবা ! নিজে উপোস করি তবু ছেলেকে মানুষ করব, লেখাপড়া শেখাব। মানুষটার মৃত্যুশয্যায় বলেছিলাম তো বটে, কিন্তু কি করি বলে ? ছেলের নেই লেখাপড়ায় মন, দেশ থেকে সাহেব তাড়াতে লাগল। জেল খেটে তাই এই মিস্তিরিাগিরি করা । এবার মাথা ফেটেচে, আরবার গুলি খেয়ে মরতে হবে। কিছু দেখিনি শুনিনি জানিনি বুঝিনি ভাবিছ ? সায়েব তাড়াতে পাগল হলে এদশ হবেই হবে। to