পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঃ তোমার রাগ আর বিতৃষ্ণার কারণটা বুঝেছ ? তোমার ঘরোয়া জীবন, আনিমেষবাবুদের সভ্য জীবন,-দুটো জীবন তোমায় কেন টানে, তবু দুটাে জীবনের ওপরেই কেন এত গায়ে জ্বালা ? কেশব জোর দিয়ে বলে, শুধু বুঝেছি। সার ? মনে প্ৰাণে অনুভব করছি । ডাক্তার দত্ত আবার জিজ্ঞাসা করে, বুঝে হোক না বুঝে হোক, অ্যাদিন যা চাইছিলে সেটা অবাস্তব অসম্ভব কল্পনা, এটা বুঝেছ ঠিকমত ? হাজার জোরের সঙ্গে সারাজীবন চেয়ে গেলেও তোমার উদ্ভট কামনা কোনদিন মিটবে না ? কেশব বলে, বুঝেছি। সার। ডাক্তার দত্ত গম্ভীর মুখে বলে, এসব বুঝলে তো ভুল ধারণা থাকার কথা নয়। বুঝবার পরেও উদ্ভট অসম্ভব ইচ্ছাটা বজায় থােক, তাতে এসে যাবার কথা নয় । কত মানুষের কত সঙ্গত সম্ভব ইচ্ছা মেটে না । সেজন্য হিষ্টিরিয়া হলে গরীব মানুষ যত আছে সবাইকে রোগটা ধরত। তাদের মধ্যেই বরং এ রোগটা সব চেয়ে কম। তা হলেই বুঝতে পারছি, তুমি কি ভাব না। ভাব তাতে আসে যায় না, তুমি কি চাও বা না চাও তাতেও আসে যায় না। যদি তোমার জানা থাকে যে ভাবনাটা ভুল, যা চাও তা পাওয়া যাবে না। জেনেশুনেও মানুষ কত গুরুতর ভুল ধারনা পুষে রাখে, অভ্যাস ছাড়তে পারে না। তার ফলে আর যাই হোক, এ, রোগের সিমটমস দেখা দিতে পারে না । ভুল ধারণা সত্যর মত মনটা দখল করে না থাকলে শরীরে প্রভাব খাটাতে পারে না ।

মনের গলদ চিনতে পারলেই কি সেরে যায় ? : না । সেটা আমার পয়েণ্ট নয়। তোমার মনের গলদ সারিয়ে

W.