পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তত্ত্বকথা বোঝাবার কোন চেষ্টাই করা হবে না, তত্ত্বকথা বুঝে তবে তার রোগটা বুঝবার দরকারও হবে না । ডাক্তার দত্তের ভাষাটা পৰ্য্যন্ত মনে আছে। আঙ্গুল উচিয়ে হাসি মুখে বলেছিল ; অর্থাৎ, তোমাকে আরেকজন ডাক্তার দত্ত হয়ে উঠবার কোন প্রয়োজন হবে না। তুমি নিজের কমনসেনস দিয়ে তোমার নিজের জীবনের মানেটা বুঝলেই যথেষ্ট হবে । কী স্বস্তিই সেদিন বোধ করেছিল । সত্যই তো, তার জ্ঞান বুদ্ধির বোধগম্য করে না বললে সে যে কিছুতেই বড় বড় কথা বুঝবে না। এটা যার খেয়াল আছে সে কি সোজা সাধারণ স্পেশালিষ্ট । নইলে সে কি এমন জোরের সঙ্গে বলতে পারে যে কমলের রোগ বংশগত নয়, পুরাণে চিকিৎসায় ফল হবে না ? তিন পুরুষ ধরে জানা আর প্রমাণ করা সত্যকে বাতিল করে এমন জোরের সঙ্গে কথা বলা কি মুখের কথা ? তিন পুরুষ ধরে কমলের বাপ ঠাকুদ্দারা পাগল হয়েছে বংশগত কারণে, লাগসই পুরানো চিকিৎসায় তারা সেরে গিয়েছে । কিন্তু কমল পাগল হয়েছে। অন্য কারণে, তার ভিন্ন চিকিৎসা দরকার-তিন পুরুষের সত্যকে বাতিল করে জোর গলায় একথা কি কেউ বলতে পারে সবকিছু স্পষ্ট পরিষ্কার ভাবে না জেনে না বুঝে ? তবু তার বেলাই ব্যর্থ হয়ে গেল এত বড় অভিজ্ঞ স্পেশালিষ্ট্রের রোগ নির্ণয় আর চিকিৎসা । তাকেও কি কম জোরের সঙ্গে ডাক্তার দত্ত জানিয়েছে যে তার রোগ কি তা জানা গেছে, চিকিৎসা কি হবে ঠিক করা গেছে, সে নিশ্চয় সেরে যাবে ? NA N-0GQ