পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিনুর সঙ্গে মায়াকে দেখে কেশব চমৎকৃত হয়ে যায়। এই অসময়ে মায়া কি করে এল ? বাখ্যারির ভয় না করে গোবিন্দের সংসারের কাজকৰ্ম্ম ফেলে, দায় এড়িয়ে ? মিনু নিশ্চয় আনমনা ছিল কেশবের চাউনি আর মায়ার ভাব দেখে তার মুখে অর্থযুক্ত হাসির ঝিলিক খেলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সচেতন হয়ে সে করে বসে আরও বেশী বোকামি । জিভের ডগায় কামড় দিয়ে ফেলে । কেশবের মনে হয়। আজ সকালে তাকে ঘিরে যেন একটার পর একটা নাটক হয়ে যাচ্ছে । অথবা এরকম নাটক রোজই ঘটে, নজর দেয় না বলে তার চোখে পড়ে না ? মিনুর মুখের সামান্য একটু হাসির বিলিক আর জিভের ডগায় কামড় দেওয়ার পিছনে কত বড় গুরুতর বাস্তবতা আছে ভাবতে গিয়ে কেশবের মাথা ঘুরে যায়। কেশব গম্ভীর মুখে ধীরে ধীরে মায়াকে জিজ্ঞাসা করে, তোমার রান্নাবান্না হয়ে গেছে ? মায়া বলে, এর মধ্যে হয়ে যাবে ? এই তো সবে কলির ন’টা বাজিলো তোমার নাকি মাথা খারাপ হয়ে গেছে শুনলাম ? কদিন পাগলের মত করছি ? দিনরাত ঘরের মধ্যে মুখ গুজে থেকে নিজের মনে বিড় दिएछ कइछ् ? ঃ হ্যা । তুমি কার কাছে শুনলে ? মিনু আস্তে আস্তে সরে যায়। তার কেটে পড়ার রকম চেয়ে দেখতে দেখতে চোখে যেন পলক পডে না কেশবের । তারপর সে সোজাসুজি মায়াকে জিজ্ঞাসা করে, মিনু টের পেয়েছে আমাদের কথা ? 8