পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করি। ভোগ করি। কিন্তু আমি কিছুই চাই না । বলে কিনা পুত্রাথে ক্রিয়তে ভাৰ্য্যা । আমি পুত্ৰও চাই না, পিণ্ডের কামনাও রাখি না । কেশব ধাধায় পড়ে বলে, কি রকম হল ? ভোগ করেন। অথচ ভুবন হাসে । ; ওইটেই তো আসল কথা ভাই। ভোগ আমি করি। কিন্তু ভুলি না। যে, আমায় ভোগ করায় তাই ভোগ করি। কেশব চুপচাপ ভাবে। মাথার উপরে তারা ভরা আকাশ পুরানো হয় না। কিন্তু চারিদিকে এলেমেলো ভাবে ছড়ানো বাড়ী আর গাছপালার পৃথিবীটা যেন জীর্ণ পুরানো হয়ে গেছে।

আমার অসুখটা সারিয়ে দেবেন। ভুবনন্দ ? মোহিনী বলে অসুখ ? তোমার আবার কি অসুখ গো ? মোহিনী কখন এসে সিড়ির মাথায় বসেছিল তারা টের পায় নি । কেশব বলে, সেটাই তো জানিনা । মাথা ঘোরে, ঘুম হয় না, ভেতরে একটা অদ্ভুত যন্ত্রণা বোধ হয়—

মোহিনী বলে, বিয়ে থা করে সংসারী হও, সেরে যাবে। ভুবন বলে, আমি বুঝেছি তোমার অসুখটা কি। তোমার রোগ হল অবিশ্বাস । এ রোগ সারাতে হলে তোমার নিজেকে ছোট করতে হবে, বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে । আমি সাহায্য করতে পারি। মনে কিন্তু সাড়া জাগেনা কেশবের । অবিশ্বাস ? এক অজ্ঞাত দুৰ্জয় শক্তিতে অন্ধ বিশ্বাসের অভাব ? কত অসংখ্য মানুষের এ বিশ্বাস ভেঙ্গে গেছে। কই, তারা তো ভোগে না তার মত রোগে ? হাসি আনন্দের অভাব তো নেই তাদের জীবনে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের কোন বালাই নেই। কানুর। সে তো দিৰ্যি আছে-খাটে খায় দায় আর ঘুমায়। V2Q