পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


; তুমি যদি আমার সত্যিকারের স্বামী হতে, সব সময় খোলাখুলি ভাবে তোমার সেবা করতে পারতাম—-

অসুখ সারিয়ে দিতে ?

ঃ একমাসও লগত না । তোমার অসুখ আর কিছুই নয় । তুমি ভারি মায়াবী মানুষ । সংসারে কারো কাছে মায়া মমতা পাওনি বলে তোমার এরকম হয়েছে। এত খাটবে পয়সা আনবে খাটি একটু দরদ পাবে না-এটাই তোমার সয় না । ঃ কেন, মা-? ঃ তোমার মা ? আমি জানি সব । তোমার চেয়ে তোমার ভায়ের জন্য মার দরদ বেশী। তুমি কাঠখোট্টা মানুষ, মোটর চালাও, স্নেহ দিয়ে তুমি করবে কি ! মেহের কাঙ্গাল বলে ? কঠিন বাস্তব নিয়ে তার জীবন কিন্তু ভিতরে তার স্নেহমমতার জন্য আকণ্ঠ পিপাসা -এ পিপাসা মেটেনি বলে তার দেহমান বিগড়ে গেছে ? কিন্তু কই, সে তো টের পায়নি এই মারাত্মক তৃষ্ণ । বরং নিজের ঘরে পরের ঘরে যে স্নেহ মমতার ছড়াছড়ি দেখেছে তাকে মনে হয়েছে কুৎসিত ন্যাকামি। এ স্নেহ এ মমতা উথলায় নিছক বাস্তব দেনাপাওনার নিরিখে। মা বল, বেী বল, ভাই বোন বন্ধু বল, যতটুকু প্ৰতিদান পাবে বা পাওয়ার আশা রাখবে ঠিক ততটুকুই দরদ দেবে প্ৰতিদানে । প্ৰথম বয়সে, বুকটা জ্বালা করত। কিন্তু সে ছেলেমানুষি ক্ষোভ মিটে গেছে বহুদিন আগেই। এটাই যখন নিয়ম সংসারের এজন্য আপশোষ করার তো কিছুই নেই। স্বামী ছাড়া গতি নেই বলে, একদিন স্বামীর কপাল ফিরবে। আশা করা ছাড়া উপায় নেই বলে, সীতা 8)