পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মায়ের অনুযোগের জবাবে ললনা বলে, কি করব বলা ? বাবাকে বললাম, বাবা বললে সিনেমায় যেতে দোষ কি ?

আমায় তো একদিন নিয়ে যায় না ! যার তার সঙ্গে তোর যেতে দোষ নেই, আমায় একদিন নিয়ে যেতে কি দোষ ।
যাবে আমার সঙ্গে ? এসে না মা, লক্ষ্মী মেয়ে। ভারি উপকার হবে। আমার !
না বাছা । উনি কি ভেবে কি করছেন জানি নে । না বলে কয়ে হুট করে তোমার সঙ্গে যাই কি করে ?

কেশব ভাবে, মাও ভয় করে বাড়ীর কর্তাকে । মেয়েও তোষামোদ করে বাপের মুরুবিকে ! শুধু তার জগতের মা আর মেয়েরা যেরকম ভাবে করে এদের রকম সকমটা তার চেয়ে খানিকটা আলাদা। শুধু ললনার জন্যই বঙ্কিম সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য নিজের বাড়ীতে মাসে দুটাে তিনটে সাংস্কৃতিক বৈঠক ডাকছে, এটা মোটামুটি জানাজানি হয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। কিন্তু ললনাকে কেউ দোষ দেয় নি, তার নিন্দাও করেনি । এই ভাবেই তো জগৎ চলে। ভদ্র অভদ্র কত গানজানা মেয়ে বঙ্কিমকে গান শুনিয়ে একটু খুন্সী করতে পারলে বর্তে যেত। ওরা কেউ ধারে কাছে ঘোষতে পারত না বঙ্কিমের । কত ভাবে কত রকম চেষ্টা করেও তাকে টানা যায়নি। ললন যদি তাকে দিয়ে তার নিজের বাড়ীতে সকলকে ডেকে বৈঠক বসাবার ব্যবস্থা করে থাকতে পারে তাকে বাহাদুর মেয়ে বলতে হবে । কেশব শুনছে কি শুনছে না কেয়ার না করে নরেশ বলে, তোমাকে দিয়ে কয়েকজন চালাক মানুষ নিজেদের কাজ বাগিয়ে নিতে চাইছে বুঝতে পারিছ না ? আসলে এর বঙ্কিমের স্তাবক হতে চায়, তাই এভাবে OY