পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার প্রশংসা করে। সত্যিকারের সংস্কৃতিচর্চা যারা করে তারা কি ওর বাড়ি যায় ? যে ক’জন তোমার খাতিরে যায়, তারা ওভাবে ওই লোকটার সামনে তোমার প্রশংসা করে ? বোঝা না ?

বুঝি বৈকি। আমি সব বুঝি। আপনি যে একথাগুলি কেন বলবেন তার মানেও বুঝি। : বলে দোষ করলাম ?
না ! বলে প্রমাণ দিলেন যে আপনার বিদেশী বিদ্যাবুদ্ধি আপনাকে গ্ৰাস করেনি ।

ঃ বিদ্যাবুদ্ধির দেশ বিদেশ আছে নাকি ? : এটা যে জানে তার কাছে নেই। না জানলেই আছে! বঙ্কিম সেদিন বিশেষভাবে ললনাকে নিমন্ত্রণ করেছিল । তার বাড়ীতে সন্ধ্যার সময় আসর বসবে, ললনার যাওয়া চাই ।

একটু দেরী হবে আমার। একটা কাজ সেরে যাব। তা হোক। দেরী হলে আপত্তি নেই। কিন্তু ললনার যাওয়া চাই । আসলে ললনার কাজ কিছুই ছিল না । আগে গেলে বেশীক্ষণ থাকতে হবে তাই দেরী করে যাওয়া ।

সে অনিমেষকে বলে, তুমিও চলনা বাবা ? অনিমেষ বলে, না । আমার কাজ আছে । প্ৰায় সাড়ে সাতটার সময় ললনাকে নিয়ে কেশব বঙ্কিমের বাড়ীর সামনে পৌছায়। বাইরে থেকে দেখে মনে হয় না ভিতরে অনেক লোকের আসর বসেছে। উপরের এক ঘরে রেডিও বাজছে শোনা যায়। ললনা ভিতরে গিয়ে ফিরে আসে। পাচ সাত মিনিটের মধ্যে । থমথম করছে মুখ, ঠোঁট ফুলে উঠেছে, চোখে বিদ্যুতের ঝলক । কেশব মনে মনে বলে, অ ! C. T.