পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু কাহিনীটা বলছি কেশব ড্রাইভারের। মেয়েটির কাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উহ্য থাক । মেয়েটিকে দ্বিতীয়বার আমাদের কাহিনীতে C९ ८ । । মস্ত সেলুন গাড়ীটা সোজাসুজি মেয়েটিকে চাপা দিয়ে সাংঘাতিক রকম আহত করতে পারত, একেবারে মেরেও ফেলতে পারত । কারো কিছু বলার থাকত না । পিছনে গাড়ী, পাশে গাড়ী, ফুটপাতে মানুষের ভিড়। এ অবস্থায় আত্মহত্যা করার জন্য কেউ যদি এভাবে চলন্ত গাড়ীর ঠিক সামনে এসে দাড়ায়, প্ৰাণপণে ব্রেক কষেও গাড়ীটা থামাবার সময় বা ফাক না রাখে, তাকে চাপা দেবার অধিকাৱ নিশ্চয় সে গাড়ীর চালকের আছে । 德 কিন্তু গাড়ীও কিনা মানুষ চালায় এবং জগতে এত সমারোহের সঙ্গে ছোট এবং বিরাট স্কেলে মানুষ মারা হয়ে থাকলেও মানুষকে বঁাচাতে চাওয়াটাই ধাত কিনা মানুষের, দুর্ঘটনাটা তাই হয়ে যায় একটু অন্যরকম। দুর্ঘটনা ঠেকাবার উপায় ছিল না। সেলুন গাড়ীটার বেঁটে মোটা কালো রঙের ড্রাইভারটি গাড়ীর এবং নিজের খানিকটা বিপদের ঝুকি নিয়ে মেয়েটিকে প্ৰাণে বঁচিয়ে দেয় । দাতে দাঁত চেপে প্ৰাণপণে ব্রেক কষার সঙ্গে সে গাড়ীটা ডাইনে ঘুরিয়ে দেয়। গাড়ীর ধাক্কায় মেয়েটি ছিটকে পড়ে ফুটপাতের দিকে, গাড়ীটা গিয়ে ধাক্কা মারে চলন্ত ট্রামিটার গায়ে । অদ্ভুত একটা টানা আৰ্ত্তনাদের মত আওয়াজ ওঠে এক সঙ্গে অনেকগুলি গাড়ী ব্ৰেক কষার ফলে । সেলুন গাড়ীটার পিছনে আসছিল পুরাণে লম্বাটে আকারের একটি গাড়ী। ব্রেক কষেও সেটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেলুন গাড়ীটার উপরে। R