পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আজ সেই গেটের বদলে বসানো হয়েছে। আলকাতরার পিপে কাটা টিনের তৈরী বাপ । থড়ে ঘরের শরৎ, যেমন একেবারে যুদ্ধে ফেঁপে গিয়ে দালান তুলে দোকান দিয়েছে, আগের যুদ্ধে তার বাবাও কিভাবে যেন কিছু টাকা বাগিয়েছিল। ভোলা এসে বলে, তামাক যে শুকিয়ে খটখাটে হয়ে আছে মামা ? ঘোমটার আড়াল থেকে আদরিণী ফিস ফিস করে বলে, আঃ মরণ, দু’ফোটা জল দিয়ে মাখাতে পারলি না ? আয়, তামাক সেজে আনি । প্ৰণব প্রশ্ন করে, ভাবিছ কি ? : ভাবছি, মিনুর বিয়ে কি তোমরা ঠিক করেছ ? কি করেছ না করেছি। আমায় বলবে তো ?

আমরা করিনি কিছু। তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হবে, তাই বলছিলাম ।

কেশব বলে, বুঝেছি, একটু ভাবতে দাও। সর্বাত্মক পারিবারিক আক্রমণের মানে সে এখন বুঝছে । এটা আক্রমণ নয়, এইভাবে তার শরণাপন্ন হওয়া । নিজেরা কি করবে: বুঝে উঠতে পারছেন, সাহস পাচ্ছে না নিজেদের দায়িত্বে কিছু করে বসতে, তাই তাকে চেপে ধরেছে মুস্কিল আসান করার জন্য। তামাক টিকে হুকো কল্কি সবই বাড়ীতে থাকে। কিন্তু কেশব তামাক খায় কদাচিৎ ৷ মিনিট দুয়ের মধ্যে নতুন জল ভরা হুকো হাতে ঘোমটার ফাক থেকে কল্কিতে ফু দিতে দিতে আদরিণী এসে যায়। হুকোর মাথায় কলিঙ্কটা বসিয়ে ভোলার হাতে দিয়ে চাপা গলায় বলে, হুকো হাতে দিয়ে পায়ে হাত দিয়ে নমস্কার করবি, বুঝলি ? 6 Ve