পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিনু নিজে থেকে বলে, বেড়াতেই তো গিয়েছিলাম । জমিয়ে জমিয়ে দেড় টাকা করেছি, চাদিক একটু ঘুরে দেখে এলাম। তোমরা খালি বলবে, কার সাথে গিয়েছিলি, কোথা গিয়েছিলি । কেশব বলে, বলে গেলি না কেন ? ঃ হু, কত যেতে দিত বললে ।

তোমায় একলা যাওয়া উচিত হয়নি।
কেন বকুল যায় না ?

এ একটা মোক্ষম যুক্তি বটে মিনুর । এই সেদিন পৰ্য্যন্ত বিপিনদের সঙ্গে অবস্থা চালচলন সব দিক দিয়ে তারা সমান ছিল, গলায় গলায় ভাব ছিল, আবার কথায় কথায় কলহ বিবাদ ছিল দু’পুরুষের প্রতিবেশী পরিবার দু’টির মধ্যে। এমন কি বাড়ী দু’টি পৰ্য্যন্ত গাথা হয়েছিল এক ধাঁচে । তফাৎ যেটুকু ছিল সেটুকু আগে গণনার মধ্যেও আসে নি। সেটা হল একজন বিশেষ মানুষের সঙ্গে কি এক সূত্রে বিপিনদের একটু আত্মীয়তা থাকা এবং এরকম কোন মানুষের সঙ্গে কেশবদের কোনরকম সম্পর্ক না থাকা । ওই মানুষটা মন্ত্রী হবার পর তফাৎটা খুব বড় হয়ে উঠেছে। ভেঙ্গে চুরে নতুন রকম হয়েছে বাড়ীটার চেহারা, সেকেণ্ড হাণ্ড একটা গাড়ী কেনা হয়েছে, একেবারে বদলে গেছে বাড়ীর সকলের চালচলন । তাদের মত প্ৰায় পাড়াটুকুর মধ্যেই ছিল সমস্ত পরিবারটি দিবরাত্রির জীবনযাত্ৰা, পুরুষেরা শুধু সহরে যেত পয়সার ধান্ধায় । ভাসা ভাসা ভাবে ছাড়া আজকাল ওদের যেন সময়ই হয় না পাড়ার লোকের সঙ্গে মেলামেশার-এবাড়ীর সঙ্গেও নয় । মেলামেশা চেতনা ● 。