পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঃ সত্যি ? নিশ্চয় শিখব। এটা না শিখে কখনো গান বন্ধ করতে পারি ? কেশবের কাজ বাড়ে ৷ ললনাকে রোজ গায়ের দিকে বেড়াতে f(3 NS3 তবে কিছুদিন থেকে মাইনেটা সে বাড়িয়ে নেবার কথা ভাবছিল। এই সুযোগে সেটা আদায় করে নেয়। তার বাড়ীর দিকের রাস্তা দিয়েও গায়ে যাওয়া যায়। বোসপাড়া ছাড়িয়ে এগোতে থাকলে তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যেতে থাকে সহরতলীর শেষ চিহ্নগুলি, পাওয়া যায় ক্ষেত মাঠ বঁাশ ঝাড় কঁচা ঘরের খাটি গ্রাম । এদিকে কলকারখানা এক রকম নেই বলা চলে। রাস্তাটা খুব খারাপ । সহরের যেসব দিকে শিল্প গড়ে উঠেছে অনেক বেশী দূর এগিয়ে গেলেও সে সব দিকে সহরতলীর লক্ষণবিহীন গা যেন চোখেই পড়তে চায় না । সে দিন ললনাকে বোসপাড়া পেরিয়ে গায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, একটু ফাকা যায়গায় পথের ধারে একটা শিরীষ গাছের তলায় দাড় করানো গাড়ীতে সে দেখতে পায় কানু আর বেলাকে । পাশাপাশি বসে কথায় দুজনে একেবারে মশগুল । খানিকটা এগিয়ে গিয়ে সেও গাড়ী দাড় করায় । ললন নামতে নামতে বলে, আপনার বাড়ী এইখানে নাকি ? এতদূর ? আটদশ দিন গান ও ছুটোছুটি বন্ধ রাখায়৷ ললনার মুখের চেহারা গলার আওয়াজ বদলে গেছে ।

একদিন যােব আপনাদের বাড়ী । আপনি রোজ কেন বাড়ী ফেরেন দেখে আসব। হঠাৎ গেলে বাড়ীর মেয়েরা মুস্কিলে পড়বেন। নইলে আজকেই যেতম।