পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কঁদিতেই সে ঠিক করে ফেলতে পারে এবাড়ীতে না রাখলে অন্য বাড়ীতে কাজ খুজে নেবে। তাকে হয় তো কয়েকদিন রীতিমত মাথা ঘামিয়ে ঠিক করতে হত দেশে ফিরবে না। সহরে থেকে যাবে। ঠিক করার পরেও থেকে যেত দ্বিধার ভাব । কেন ? তার অসুখটার জন্য ? নিজেকে নিষ্ঠুরভাবে একটা প্ৰচণ্ড আঘাত হানতে ইচ্ছা হয় কেশবের ভোরে কাজে এসে ললনাকে গান গাইতে শুনে কেশব আশ্চৰ্য্য হয়ে যায় । লালনার ধৈৰ্য্যের বাধ। তবে ভেঙ্গে গেল ? গানের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেল রোগের যাতনা ? সেদিন ভোরে বুড়ীকে গঙ্গা নাইয়ে এলে সে আরও আশ্চৰ্য্য হয়ে যায় ছোট বড় চারটি মেয়েকে ললনা গান শেখাচ্ছে দেখে । মলিনা জানালার কাছে দাড়িয়ে চুপ করে শুনছে। লালনার আনন্দোজ্জল মুখ যেন তার মুখের স্থায়ী বিষন্নতাকে নষ্ট করে দিয়েছে । শিক্ষার্থিনীদের মধ্যে দুটি মেয়ে পাড়ার, দুজনকে কেশব কখনো छुigथ नेि । ঘড়ি ধরে ঠিক এক ঘণ্টা শিখিয়ে ললনা তাদের কয়েকটি উপদেশ দিয়ে বিদায় দেয় । খানিক পরেই আসে জীবন আর শঙ্কর, ললনার সঙ্গে এই যুবক দু'টির অনেকদিনের আলাপ। সামনের শনিবার সন্ধ্যায় তারা একটি সভার আয়োজন করেছে, ললনাকে গিয়ে দু’একখানা গান গাইতে হবে।