পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৪২ আৰ্য্যাবর্ত । ৪র্থ বর্ষ-৪র্থ সংখ্যা। LMLSSLSLMSLALSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSLSL LSL SLSSSLLLSLLLLLL নাই ? যে স্থানে পিতা অপমানিত, ভ্ৰাতা লাঞ্ছিত এবং বংশ-গৌরব অপমানের বিষয় ইচ্ছা করিলে সে স্থান ত্যাগ করিতে আমার ভগিনীর কি অধিকার নাই ?” এই কথায় প্ৰবোধচন্দ্ৰ ঈষৎ বিদ্রুপের হাসি হাসিয়া “আচ্ছা, দেখা যাউক” বলিয়া কক্ষ হইতে বহির্গত হইয়া গেল । রমেশ আবার একাকী বিছানায় পড়িয়া ছটফট করিতে লাগিল। রমেশ আসিয়াছে শুনিয়া প্রভার স্নান মুখে আবার হাসি ফুটিয়াছে। সে মনে করিল, যখন দাদা আসিয়াছেন, তখন অবশ্যই লইয়া যাইতে পরিবেন। কিন্তু তখনই আবার স্বামী প্রভৃতির ব্যবহারের কথা মনে করিয়া সে ভয়ে মিয়ামান হইয়া গেল । আজ প্ৰভা সাহস পাইয়াছে। পাছে ইহঁ।ারা ভ্ৰাতার সহিত দেখা করিতে না দেন, এই ভয়ে সে আপনি একটি বিকে দিয়া রমেশকে ডাকাইল । রমেশ ঘরে প্রবেশ করিবামাত্ৰই প্ৰভা কাদিয়া ফেলিল ; কিছুই বলিতে পারিল না। রমেশের নগ্ন নেও জল ঝরিতেছিল। অশ্রু মুছিয়া, রমেশ কহিল, “প্ৰভা, তোর পবিত্ৰ মেহাশ্রফ আমার হৃদয়ের সমস্ত অপমানের ক্ষত দুর করিয়াছে আমার আর কোন দুঃখ নাই।” “দাদা, দাদা !” বলিতে বলিতে প্রভার কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া আসিল । সে আর কিছুই বলিতে পারিল না। রমেশ বলিল,- “প্ৰভা, ইহঁরা তোকে পাঠাইবেন না ।” প্ৰভা, বলিল, “আমি যাইব ।” “না। যাইলে বোধ হয়। আর আসিতে পাইবি না ।” এই কথায় প্রভার মুখ অন্ধকার হইয়া গেল। কিছুক্ষণ ভাবিয়া সে বলিল, “যাহা হয় হউক, আমি যাইব । যে স্থানে পিতার অপমান, তোমার অপমান, আমার পদে পদে নিৰ্য্যাতন, সে স্থান আমি ত্যাগ করিবই।” “প্ৰভা, ভাল করিয়া ভাবিয়া দেখা - ** ‘কাল সকালে যাওয়াই ঠিক । দাদা, তুমি প্ৰস্তুত থাক ৷” ভগিনীর দৃঢ় সংকল্প দেখিয়া রমেশ ধীরে ধীরে কক্ষ হইতে বহির্গত হইল। রমেশ বহির্গত হইবার অল্পক্ষিণ পরেই প্ৰবোধ প্রভার কক্ষে প্ৰবেশ করিল ; প্রবেশ করিয়াই উচ্চকণ্ঠে ব্যঙ্গস্বরে কহিয়া উঠিল, “ভ্রাতার সঙ্গে যাইবার পরামর্শ হইল ? আমার বিনানুমতিতে আমার বাড়ী ছাড়িতে তোমার কোন অধিকার নাই, তাহা তুমি জান ?” প্রভার আজ সে সলজ সভয় ভাবে আর নাই । আজ যেন সে মরণসাহসে বুক বাধিয়াছে। আজ আর তাহার একটি কথাও কঁাপিতেছে না। সে স্পষ্টস্বরে উত্তর করিল, “তোমার অমৰ্য্যাদা করিতে,তোমার অবাধ্য হইতে আমার কোন অধিকার নাই ; আর বিদ্রুপের তীক্ষ্মশরে একটি শান্তিময় সোনার সংসারের মৰ্ম্মস্থল ভিন্ন করিতে, একটি নিরীহ শান্ত পরিবারকে অপমানের একমাত্র লক্ষ্যস্থল করিতে, তোমার স্ত্রীকে তাহার মধুর শৈশব