পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సికి ت" আৰ্য্যাব । ১ম বর্ষ-৩য় সংখ্যা । আমাদের প্রথম মন্তব্যের দৃষ্টান্ত স্বরূপে “সতী” “সহমরণে,”। “পূৰ্ব্বস্বতি” প্রভৃতি অংশের ও দ্বিতীয় মন্তব্যের দৃষ্টান্তস্বরূপে বদরগঞ্জের ঘাটে হাঙ্গরের গ্রান্সে কৃত্তিবাসের আত্মবিসৰ্জন-চেষ্টার উল্লেখ করা যাইতে পারে। কিম্বদন্তী যে অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটয়াছিল বলিয়া রটনা করিয়াছে—সে অঞ্চলে হাঙ্গরের আবির্ভােব অসাধারণ ঘটনা। দুর্গাদাসবাবু যে সকল উপকরণ সংগ্ৰহ করিয়াছেন, সে সকলের যথেষ্ট সদ্ব্যাবহারও করিয়াছেন। সুতরাং উপন্যাসের হিসাবে পাঠকের যাহা লোকসান, ইতিহাসের হিসাবে তাহা লাভ। লাভ লোকসান খাতাইলে মোটের উপর কিছু লাভই থাকিয়া যায়। আর পাঠকের সর্বাপেক্ষা অধিক লাভ, আদর্শ হিন্দুরমণীর পুণ্য চরিত্রের বিবরণ পাঠে। রাণী ভবানীর নাম বঙ্গে সৰ্ব্বত্র সুপরিচিত। তিনি পুণ্যবতী হিন্দু বঙ্গনারীর আদর্শ ; তাহার জীবন পরার্থে উৎসৃষ্ট ; তিনি ভোগের মধ্যে থাকিয়াও ত্যাগী ; সর্বোপকার্যক্ষম গৃহস্থাশ্রমে থাকিয়া তিনি পুণ্য জীবনের যে আদর্শ দেখাইয়াছে তাহ ঃ “যতনে রাখিবে বঙ্গ মনের ভাণ্ডারে রাখে যথা সুধামৃতে চন্দ্রের মণ্ডলে ।” এই গ্রন্থমধ্যে একটি কিম্বদন্তীর উল্লেখ আছে।--তাহাতে প্ৰকাশ, রাণী ভবানীর পোস্থ্যপুত্ৰ সাধক রামকৃষ্ণ ভবানীধামে সাধনা করিতেন। “ভবানীপুরের পীঠস্থানে একদিন তিনি ভবানীর সাধনায় তন্ময় হইয়াছিলেন। দেবী স্বয়ং আবিভূতি হইয়া তাহাকে উপদেশ দিলেন,-“তুমি আমার আরাধনা কি করিতেছি ? তোমার মাতা ভবানী আমার অংশরূপিনী । যদি আমার অনুকম্প পাইতে চাও, জননীর চরণে শরণাপন্ন হও।” এই প্ৰত্যাদেশ শুনিয়াও সাধনা পরিত্যাগ না। করায়, মহারাজ রামকৃষ্ণ ভবানীপুর হইতে নিক্ষিপ্ত হইয়াছিলেন। কে যেন আসিয়া তাহাকে উত্তোলন করিয়া, দক্ষিণের দিকে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিয়াছিল। পরদিন প্ৰভাতে পাকুড়িয়ার সেতুর নিকট মূচ্ছিতাবস্থায় রাজাকে দেখিতে পাওয়া যায়। পাকুড়িয়ার ঠাকুর মহাশয়দিগের যত্নে তঁাহার। মুছাভিঙ্গ হইলে, মহারাজ তাহাদিগকে বলেন,-“আপনারা আমাকে অবিলম্বে আমার মাতার নিকট পৌছাইয়া দেন।” রঘুমণি ঠাকুর এবং ভোলানাথ ঠাকুর প্রভৃতি মিলিত হইয়া বড়নগরে মহারাণী ভবানীয় নিকট র্তাহাকে পৌছাইয়া দেন। সেখানে পৌঁছিয়া, ত্রিরাত্রি গঙ্গাবাসের পর, গঙ্গাজলে মাতার পাদপদ্মে মন্তক রাখিয়া মহারাজ রামকৃষ্ণ দিব্যধামে গমন করেন।”-এই কিম্বদন্তী হইতেই বুঝা যায়, দেশের লোক রাণী ভবানীকে মূৰ্ত্তিমতী দেবী বলিয়াই মনে করিত।