পাতা:আর্য্য-নারী দ্বিতীয় ভাগ.djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

আর্য্য-নারী । - ܟܠ আরম্ভ করিলেন। যুদ্ধে অন্য সকল ভ্রাতাকে বিনাশ করিয়া ঔরঙ্গজেব দিল্লীর সিংহাসন অধিকার করিলেন । ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে যখন তাহার ভ্রাতাদের যুদ্ধ হয়, যশোবন্তসিংহ তখন ঔরঙ্গজেবের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দারার প্রধান সহায় ছিলেন। বস্তুতঃ সাহস, বীর্য্য, বুদ্ধি, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা সর্ব বিষয়েই যশোবন্তসিংহ বিশেষ শক্তিশালী পুরুষ ছিলেন। হিন্দু মুশলমান সকল রাজপুরুষই তাহাকে বিশেষ শ্রদ্ধা করিতেন। যিনি যেমন বীর, যেমন সেনাপতিই হউক না, যুদ্ধে জয় পরাজয় দুইই ঘটে। কোন এক যুদ্ধে পরাজিত হইয়া যশোবন্তসিংহ নিজ রাজধানী যোধপুরে আসিলেন। তেজস্বিনী রাণী ইহাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ ও রুষ্ট হইলেন। তিনি একে রাজপুত রমণী, তায় মিবারের রাণাকুলে জন্মিয়াছেন। রাজপুতরমণী পুরুষের সকল দোষ মার্জনা করিতে পারেন কিন্তু কোনরূপ ভীরুতা বা কাপুরুষতা মার্জনা করিতে পারেন না। স্বামী, পুত্র, ভ্রাতা, বড় মেহের, বড় ভালবাসার, বড় আদরের ধন। যে কেহই হউক না, রাজপুতরমণী চায়, এমন প্রাণের যারা আকাঙক্ষ্য, তাহারা যুদ্ধে মরিবেন, তবু পরাজিত হইয়া যেন গৃহে ফিরেন না। প্রাণাধিক পুত্র, প্রিয়তম স্বামী, স্নেহের ভ্রাতা, ইহাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পতিত মৃতদেহ দেখিয়া রাজপুতরমণী বিশেষ দুঃখিত হন না, কিন্তু পরাজিত ও গৃহে প্রত্যাগত তাহাদিগকে দেখিলে তঁাহারা ঘূণায় মরিয়া যান, জীবনকে ধিকার দেন ।