পাতা:ইতিকথার পরের কথা.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ছিল উপযুক্ত, তার শিক্ষায় বন্যার মত ভেসে গিয়েছিল দেশ। আজ এত প্রয়োজন তবু নতুন ভাবের বন্যা আসে না কেন দেশে ? প্রয়োজন চরমে উঠেছে, কিন্তু দেশ"কি প্রস্তুত নয় ? বন্যা এনে দেবার মানুষ নেই ? 禹 একদিন কোথা থেকে স্টেশনে নামে নেংটি-পরা ছাই-মাখা সন্ন্যাসী । বেশী দিনের সন্ন্যাসী নয় বোঝা যায়, চুল সবে জট পাকাতে আরম্ভ করেছে। মুখভরা আধা ইঞ্চি গোপর্দাড়ি। ছাই ভেদ করে চোখে পড়ে তার দেহের মলিন গৌরবর্ণ। হাতে একটা ভাঙা কাসার থালা, এক টুকরো পোড়া কাঠ দিয়ে সেটা পিটিয়ে লোক জড়ো করে চেচিয়ে বলে, আমি কলির অবতার, তোমাগো মুক্তি দিতে আইছি । স্বৰ্গে ভগবানরে বিনাশ কইরা মর্তে নামছি, আমি তোমাগো অধৰ্ম শিখামু, মুক্তি দিমু। ডব নাই, কোন ডর নাই। আমি তোমাগো বাচামু। হেলেন্দুলে মাথা নেড়ে পাক খেয়ে অঙ্গভঙ্গি করে। কঁাসার ভাঙা থালাটা ঠাং-ঠাং করে পিটিয়ে দেয় । বলে, কলিকালে সব উল্টা । আমি উল্টা অবতার হইছি, তোমাগো শিখাইতে আইছি। তোমাগো বুঝাইতে আইছি। তোমরা আমারে পূজা করব, অধৰ্ম করব । ভুইলো না, যত পাপ করবা তত সুখ পাইবা । কেউ খেতে দিলে খায়, না দিলে চায় না। প্রশ্ন করে জবাব মেলে না । .এ-গাঁ ও-গ। ঘুরে বেড়ায় আর থালা পিটিয়ে লোক জড়ো করে নিজের কথা বলে যায়। ওই এক কথা, ভগবানকে সে বিনাশ করেছে, ভগবানের সে বিপরীত অবতার, এবার থেকে সকলে তাকে পূজা কর, অধৰ্ম কর, পাপ কর। সুখ পাবে, মুক্তি পাবে। খবর শুনে ত্রিভুবন বারতলায় গিয়ে তাকে পাকড়াও করে। তাকুে কথা বলাবার জন্য, প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য তিন-চার ঘণ্টা চেষ্টা করে গলদঘর্ম হয়ে যায়। পাগল সন্ন্যাসী তাকে পাত্তাও দেয় না । ত্রিভুবন শেষে ভয় দেখিয়ে বলে, তোমায় পুলিসে ধরিয়ে দেব। R O R