পাতা:ইন্দিরা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Hb- हैमिलग्न আমি। ষোল বছরের মেয়ের মুখে ভাল শুনাইত না বটে, সাত বছরের মেয়ের মুখে বেশ শুনায়। জোয়ান মিন্‌ষের হাতের চড় চাপড় জিনিস ভাল নহে বটে, কিন্তু তিন বছরের ছেলের হাতের চড় চাপড় বড় মিষ্ট । বসুজপত্নী আর কিছু না বলিয়া, ভারি হইয়া বসিয়া রহিলেন । আমি ভাবিতে লাগিলাম। ভাবিলাম, এ প্রভেদ কেন হয় ? এক জিনিস দুই রকম লাগে কেন ? যে দান দরিদ্রকে দিলে পুণ্য হয়, তাহ বড়মানুষকে দিলে খোষামোদ বলিয়া গণ্য হয় কেন ? - যে সত্য ধৰ্ম্মের প্রধান, অবস্থাবিশেষ তাহা আত্মশ্লাঘা বা পরনিন্দাপাপ হয় কেন ? যে ক্ষম পরমধৰ্ম্ম, হস্কৃতকারীর প্রতি প্রযুক্ত হইলে, তাহা মহাপাপ কেন ? সত্য সত্যই কেহ স্ত্রীকে বনে দিয়া আসিলে লোকে তাহাকে মহাপাপী বলে ; কিন্তু রামচন্দ্র সীতাকে বনে দিয়াছিলেন, তাহাকে কেহ মহাপাপী বলে না কেন ? ঠিক করিলাম, অবস্থাভেদে এ সকল হয়। কথাটা আমার মনে রহিল। আমি ইহার পর এক দিন যে নির্লজ্জ কাজের কথা বলিব, তাহ। এই কথা মনে করিয়া করিয়াছিলাম । তাই এ গানটা এখানে লিখিলাম । নৌকাপথে কলিকাতা আসিতে দূর হইত্তে কলিকাতা দেখিয়া, বিস্মিত ও ভীত হইলাম। অট্টালিকার পর অট্টালিকা, বাড়ীর গায়ে বাড়ী, বাড়ীর পিঠে বাড়ী, তার পিঠে বাড়ী, অট্টালিকার সমুদ্র ;–তাহার অস্ত নাই, সংখ্যা নাই, সীমা নাই। জাহাজের মাস্তুলের অরণ্য দেখিয়া জ্ঞান বুদ্ধি বিপৰ্য্যস্ত হইয় গেল। নৌকার অসংখ্য, অনন্ত শ্রেণী দেখিয়। মনে হইল, এত নৌকা মানুষে গড়িল কি প্রকারে ? * নিকটে আসিয়া দেখিলাম, তীরবর্তী রাজপথে গাড়ি পান্ধী পিপড়ের সারির মত চলিয়াছে—যাহার। হাটিয়া যাইতেছে, তাহাঁদের সংখ্যার ত কথাই নাই। তখন মনে হইল, ইহার ভিতর খুড়াকে খুজিয়া বাহির করিব কি প্রকারে । নদী সৈকতের বালুকরোশির ভিতর হইতে, চেন। বালুককণাটি খুজিয়া বাহির করিব কি প্রকারে ? • কলিকাতায় এক্ষণে নৌকার সংখ্যা পূৰ্ব্বকার শতাংশও নাই।