বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক

ধুলো সাঙ্গ করে’ ছেলেরা যে যার মতো গৃহে ফিরেছে। কিন্তু প্রসাদের আর সে দিন দেখা নেই। দক্ষিণা রান্না শেষ করে’ তেলের বাটী নিয়ে প্রসাদের জন্যে অপেক্ষা কর্‌ছিল। ধীরে ধীরে যখন উঠানের কোণের ডালিম গাছটার ছায়া তার গায়ে মিশে গেল অথচ প্রসাদ ফির্‌ল না তখন দক্ষিণা তার খোঁজে চল্‌ল। দক্ষিণা সহজেই মনে কর্‌ল যে প্রসাদ হয়ত আর কোন বালকের সঙ্গে তাদের বাড়ীতে গিয়েছে। কিন্তু যখন সমস্ত প্রতিবেশীদের বাড়ীতে ঘুরে ঘুরে প্রসাদের খোঁজ মিল্‌ল না তখন তার মার মন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হ’য়ে উঠ্‌ল। কিন্তু দক্ষিণা আবার মনে করল যে হয়ত প্রসাদ এতক্ষণ ঘরে ফিরেছে। এই মনে করে’ দক্ষিণা দ্রুতপদে গৃহে প্রত্যাগমন কর্‌ল। না,——কুটীরের দ্বার তেম্‌নি রুদ্ধ। কেউ কোথাও নেই। আশে পাশে কোনখানে প্রসাদ থাক্‌তে পারে মনে করে’ দক্ষিণা উচ্চৈঃস্বরে ডাক্‌ল “প্রসাদ প্রসাদ”, কোন উত্তর নেই। প্রসাদ ফেরে নি।

 ত্রস্তপদে দক্ষিণা আবার বাটী থেকে বহির্গত হ’ল। আবার পাড় প্রতিবেশীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে জিজ্ঞেস কর্‌তে লগ্‌ল। কোথাও প্রসাদ নেই। এমনি করে, যখন দক্ষিণা চতুর্থবার গৃহ থেকে গৃহান্তরে কেঁদে কেঁদে প্রসাদের খোঁজ করে’ বেড়াচ্ছিল তখন একটি ছোটছেলে দক্ষিণাকে বল্‌ল যে, প্রসাদ খেলার মাঝখানে ছাতিমতলা থেকে চলে গিয়েছিল——আর তার যদ্দুর মনে পড়ে তাতে সে প্রসাদকে ছাতিমতলা থেকে যে পথটী সমুদ্রের দিকে গিয়েছে সেই পথ ধরে’ যেতে দেখেছে। দক্ষিণা মুহূর্ত্তমাত্র অপেক্ষা না করে’

৯৬