বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক

দেবতার কাছে নানা মানত করতে করতে চলল। ছাতিমতলায় এসে দেখ্‌ল সে স্থান জনশূন্য। দক্ষিণা সেখান থেকে যে পথ সমুদ্রের দিকে গিয়েছে সেই পথ ধরে’ চল্‌ল। কিছুকালের মধ্যে দক্ষিণা সমুদ্রের ধারে এসে উপস্থিত হ’ল। সেখানে এসে সে ইতস্ততঃ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে’ যা দেখল তাতে তার চক্ষুস্থির হ’য়ে গেল!

 দক্ষিণা দেখ্‌ল সমুদ্রের ধারে একখানে বন্য ঝাউ আর নারিকেল গাছে একটা কুঞ্জের মতো সৃষ্ট হয়েছে—আর সেখানে প্রসাদ একটি ঝাউয়ের গায়ে হেলান দিয়ে বসে’ একদৃষ্টে সমুদ্রের দিকে চেয়ে আছে। মধ্যাহ্ন—সূর্য্য—উদ্দীপ্ত আকাশ সমুদ্রকে একটা অতি মনোরম চোখজুড়ান নীল রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে। গত রাত্রির ঝঞ্ঝা—তাড়িত উর্ম্মিমালা এখনও যেন তাদের তাল সাম্‌লিয়ে ঊঠ্‌তে পারে নি—তাই তখন তারা গর্জ্জে’ গর্জ্জে’ বেলাভূমে এসে প্রতিহত হ’য়ে ফিরছিল। আর তারই উপকূলে ছায়া—সুনিবিড় কুঞ্জতলে ক্ষুদ্র শিশু আপনার ক্ষুদ্র দুটী হাতে ক্ষুদ্র দুটী হাঁটু জড়িয়ে ধরে বসে বসে তাই দেখছিল; শিশু পলকহীন—নির্বাক—নিস্তব্ধ!

 দক্ষিণা তাড়াতাড়ি অগ্রসরর হ’য়ে প্রসাদকে কি ভর্ৎসনা করতে যাচ্ছিল, কিন্তু প্রসাদ মানুষের পায়ের শব্দ শুনে চম্‌কে চেয়ে দেখল, তারপর মাকে দেখে তৎক্ষণাৎ দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল ও উত্তেজিত ভাবে বল্‌লে “মা মা শুন্‌ছিস্ কি মা?”

 শিশুকণ্ঠের মা—ডাকে মাতার মনের ক্রোধ মুহূর্ত্তে চোখের জলে পরিণত হয়ে গেল। দক্ষিণা প্রসাদকে বক্ষে তুলে নিয়ে মুখচুম্বর করে জিজ্ঞেস কর্‌ল—“কি বাবা?”

৯৭