বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা
সমুদ্রের ডাক

 প্রসাদ তেমনি উত্তেজিত কণ্ঠে বল্‌ল—“ঐ শোন্ শোন্ মা সমুদ্র কেবলি ডাক্‌ছে—‘প্রসাদ প্রসাদ।’ শুনিস্ না কি মা তুই?”

 শিশুর কথা শুনে দক্ষিণার বুক দুর্‌দুর্‌ করে’ কেঁপে উঠল। কোন্ অজ্ঞাত আশঙ্কার আশু সম্ভাবনায় তার চিত্ত মন প্রাণ খিন্ন হয়ে উঠল। দক্ষিণা বল্‌ল—“ছিঃ বাবা পাগলামি করে না। সমুদ্র কি ডাক্‌তে পারে! ও যে ঢেউয়ের শব্দ।”

 দক্ষিণা প্রসাদকে কোলে নিয়ে বাড়ী ফির্‌ল।

 এর পর থেকে সুযোগ পেলেই প্রসাদ সেই ঝাউকুঞ্জতলে গিয়ে বসে একদৃষ্টে সমুদ্রের দিকে চেয়ে থাকত! এই ক্ষুদ্র শিশুটী সমস্ত খেলাধূলা ফেলে, একা একা সমুদ্রের দিকে চেয়ে কি ভাবে তা কে জানে? সিন্ধুর ছলছলয়িত কলরোল সে ক্ষুদ্র হৃদয়ের পরতে পরতে কোন্ ভাবের তরঙ্গ তুলে যায় তা কে বল্‌তে পারে? কে জানে কোন্ রহস্যের যবনিকা ভেদ করে’ কোন স্বপ্নের সন্ধানে শিশু তার কালো চোখের নির্ম্মল দৃষ্টি সীমাহীন দিগন্তে বন্ধ করে’ সিন্ধুকূলে বসে থাকে? কেউ জানে না। শিশু কি জানে? কে জানে শিশু জানে কি না। কিন্তু তবুও শিশু যায়। একা একা—সমস্ত ছেড়ে খেলাধূলো হাসি—গল্প সমস্ত পরিত্যাগ করে’ শিশু যায়, সেই ঝাউকুঞ্জতলে আপনাকে ভুলিয়ে দিতে—ভাসিয়ে দিতে—ডুবিয়ে দিতে! ক্রমে ক্রমে দক্ষিণা যখন জান্‌ল যে, প্রসাদ খেলবার নামে প্রকৃতপক্ষে সমুদ্রের ধারে গিয়ে একা একা বসে’ থাকে, তখন সে প্রসাদকে প্রথমে মিষ্টি কথায় তারপর ভর্ৎসনায় ও অবশেষে ভয় প্রদর্শনে সেখানে যেতে নিরস্ত করতে চেষ্টা কর্‌ল কিন্তু যখন দেখল কিছুতেই

৯৮