বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক

জলে নামিয়ে দিল। তারপর পাল খাটাবার খুঁটিটা ঠিক জায়গায় বসিয়ে দিয়ে পাল খাটিয়ে দিল—ভেলা অনুকূল বাতাসে তরতরিয়ে দিগন্তের পাণে—যেন উড়ে গেল—ভেলার পিছন দিকটায় প্রসাদ বৈঠা হাতে তার মাথা ঠিক রাখতে লাগল আর তার আগায় বসে’ শ্রীমন্ত জালটা গুছিয়ে রাখতে লাগল।

 সেদিন সাগরে রূপোর ও রূপের বাণ ডেকেছিল। দুধের চাইতেও সাদা রূপোর পাত গায় জড়িয়ে রূপসী উর্ম্মিবালাবা চিক্‌-চিক্ ঝিক্-ঝিক্ করছিল— খিল্‌ খিল্‌ করে’ হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল। তীরের গাছগুলো যখন ঝাপসা হয়ে এল তখন ভেলার পাল নামিয়ে নেওয়া হল। তারপর ভেলার পিছল দিকটায় বসে প্রসাদ একটু একটু করে বৈঠা মারতে লাগল আব গলুইয়ের কাছে স্তুপাকৃতি করা জালটা শ্রীমন্ত, ভাঁজ খুলে খুলে জলে নামিয়ে দিতে লাগল।

 “জানিস্ প্রসাদ, পূর্ণিমে রাত্তিরে যেমন জালে গল্‌দা চিংড়ি পড়ে তেমন আর কখনও না। আর চাঁদ্‌নী রাত যদি মেঘলা মেঘলা হয় তবে কাঁকড়ার লেখাজোকা নেই”, শ্রীমন্ত জাল ফেল্‌তে ফেল্‌তে অজস্র ব’কে যাচ্ছিল আর প্রসাদ তাই নির্ব্বাক হয়ে শুনে যাচ্ছিল। “জানিস রে প্রসাদ সেই যেবার আমি তোর মাকে বিয়ে করলাম— সেই সেবার যে এই খানটাতে কোথা থেকে এক পাল হাঙ্গর এসে পড়ল—” “প্রসাদ প্রসাদ” প্রসাদের কানে এসে বাজল কে যেন ঠিক তার পিছন থেকে তাকে ডাকল—“প্রসাদ প্রসাদ” চমকে পিছন ফিরে চেয়ে দেখল। কই, কেউ ত

১০১