বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
সমুদ্রের ডাক!

চক্ষু, ললাট, মস্তক, মস্তকের কেশরাশি ধীরে ধীরে অদৃশ্য হ’য়ে গেল। দ্বিগুণ উৎসাহে লক্ষ লক্ষ উর্ম্মিবালারা চিক্‌-চিক্ ঝিক্-ঝিক্‌ করে উঠল—যেখানটায় সাগরের বুক চিরে প্রসাদের সমস্ত শরীরটা অদৃশ্য হয়ে গেল সেখানটার উপর দিয়ে মহাছুটোছুটি লাগিয়ে দিল আর খিল্-খিল্ করে’ হাসতে লাগল।

 “বৈঠে ঠেলছিস্ না ক্যান্ রে প্রসাদ?” যখন প্রসাদের কোন উত্তর মি‌ল্‌ল না, তখন শ্রীমন্ত মুখ ফিরিয়ে চেয়ে দেখ্‌ল—দেখ্‌ল শুধু শূন্য—প্রসাদ যেখানটায় বসে’ ছিল সেখানটা শূন্য—সমস্ত ভেলাটাই শূন্য—শুধুই শ্রীমন্ত—আর কেউ নেই!

 মুহূর্ত্তে শ্রীমন্তের হৃদয় থেকে একটা তপ্ত আগুনের ঝলক্ উঠে তার সমস্ত শিরায় শিরায় ছড়িয়ে গেল। শ্রীমন্তের হাত থেকে জালের দড়ি খসে পড়ল! মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে দাঁড়িয়ে সংজ্ঞালুপ্ত চোখ দুটো দিয়ে প্রসাদ যেখানটায় বসে ছিল সেখানটায় অর্থহীন দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। তারপর মর্ম্মভেদী চীৎকার করে একবার খালি “প্রসাদ” বলে ডেকে ভেলার উপরে পড়ে গেল। উত্তরে লক্ষ ঊর্ম্মিবালারা চাঁদের কিরণে চিক্‌-মিক্‌ করে' লক্ষ নিষ্ঠুরা তরুণীর মতো ভেলার আশে পাশে প্রতিহত হ’য়ে খিল্‌ খিল্‌ করে’ হাস্‌তে লাগল আর কৌতুক করে ডাকতে লাগল—“প্রসাদ প্রসাদ!”

সমাপ্ত।

১০৩