পারদর্শিতার তা আমি নিজে কেমন করে' বলব? তবে আমার অঙ্কিত চিত্রে হিন্দুস্থানের অনেক নৃপতি অনুগ্রহ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
বাদশা বললেন-“শোন যুবক, ইসলাম-রমণী কোনদিন বিধর্ম্মীপুরুষের কাছে তার মুখাবরণ উন্মোচন করবে না, শাস্ত্রের নিষেধনা দেখে তুমি তার আলেখ্য অঙ্কিত করতে পারবে?”
শিল্পী বিস্মিত হ'য়ে জিজ্ঞাসা করলে “না দেখে কি করে ছবি আঁকা চলতে পারে জাঁহাপনা?”
বাঁধা দিয়ে বাদশা জিজ্ঞাসার সুরে বললেন “কেবল তার বর্ণনা শুনে।”
যুবক বললে-“এমন কবি কে আছে জাঁহাপনা যে শব্দ অর্থ ও সুর দিয়ে রক্তমাংস ও বর্ণকে এমনি করে মূর্তিমান করে তুলতে পারে যা আবার রঙে ও তুলিতে পরিবর্তিত করা যেতে পারে!”
গৌরবান্বিত দৃষ্টিতে বাদশা উত্তর দিলেন “বিদেশী যুবক! আছে, ইরাণ-তুরাণের শ্রেষ্ঠ কবি—যার কণ্ঠসুরে শরৎ-উষার উজ্জ্বল আকাশ সান্ধ্য গগনের মত ব্যথিত হ'য়ে ওঠে—হেমন্ত-সন্ধ্যার করুণ রাগিণী বসন্ত-উষার মত হাস্যময় হ'য়ে ওঠে—যার সারেঙ্গীর আলাপে প্রচণ্ড নিদাঘে বর্ষার শৈত্য আমন্ত্রন করে আনে—শীতের শুভ্র মাটীতে সবুজ রঙ জাগিয়ে তোলে—যুবক তুমি নিজেই বিচার করবে”—বাদশা কবি তায়েজকে গান করতে আদেশ করলেন।
সারেঙ্গীর সুর জেগে উঠল—কিশোরী প্রিয়ার সলজ্জ চাউনির
৭