উঠবে—তাঁর বুক দুলে উঠবে—গণ্ডে তাঁর গোলাপ ফুটবে—হাতে তাঁর চাঁপার কলি জাগবে—পায়ে তাঁর রক্তকমল বিকশিত হবেতাঁর ওড়না উড়বে, বেণী দুলবে, ঘাগরা ঝুলবে; কিন্তু তাঁর আত্মার কথা আমি বলতে পারব না জাঁহাপনা। কবি তায়েজের সুরের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেগমের বাহিরকেই আমি দিতে পারব——জাঁহাপনা, তাঁর আত্মার সন্ধান আমি দিতে পারব না।”
বাদশা জিজ্ঞাসা করলেন—“কেন শিল্পী?”
শিল্পী উত্তর দিলে— “জাঁহাপনা, আত্মা যে সামনা সামনি দেখবার জিনিষ—হাজার বর্ণনাতেও তার আসল পরিচয় নেই। শিল্পীর আত্মা দিয়ে নতুন বেগমের আত্মা স্পর্শ করতে না পারলে তার তুলির সঙ্গে তা কখন ধরা পড়বে না। এ আত্মায় আত্মায় স্পর্শ অনুবাদের ভিতর দিয়ে হতে পারে না। জাঁহাপনা, আমি ছবি আঁকব; কিন্তু তাতে আত্মার সন্ধান করবেন না।”
বাদশা বলে উঠলেন—“কিন্তু নতুন বেগমের যে দেহের চাইতে আত্মা ‘সুন্দর—আত্মা সুন্দর বলেই ত তার দেহ সুন্দর সেই আত্মাকে বাদ দিয়ে শুধু দেহের ছবি আঁকা—যেন গন্ধ বাদ দিয়ে গোলাপ ফোটান—নেশা বাদ দিয়ে মদ চোয়ান; কিন্তু বিধর্মীর কাছে ইস্লাম-রমণী কেমন করে মুখ খুলবে?—উপায় কি?” বাদশা তাঁর দরবারের আমীর ওমরাহ্দের দিকে তাকিয়ে উজিরকে সম্বোধন করে বললেন—“ফজলু খাঁ উপায় কি?”
ইরাণ সাম্রাজ্যের প্রধান উজির বিমনা হলেন। আমীর ওমরাহরা পরস্পরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলেন। সভা
৯