বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।

রেখা ফুটে অচঞ্চল হয়ে চারিদিক উদ্ভাসিত করে’ রাখল—যেন—। বাদশা বললেন—“শিল্পী, এই তোমার আলেখ্য।”

 বাদশা শিল্পীর দিকে চোখ ফিরিয়ে কথা শিল্পীর কানে যায় নি—তার দৃষ্টি— দেখলেন, বুঝলেন তাঁর দর্পণে নিবন্ধ শিল্পী মন্ত্রমুগ্ধ - বাহ্যজগত তার কাছে লোপ পেয়েছে। বাদশার ঠোঁট দুখানিতে একটা তৃপ্তির, একটা গৌরবের, যেন একটা বিজয়ের নিঃশব্দ হাসির রেখা অঙ্কিত হ’য়ে গেল।

 শিল্পীর দৃষ্টিতে কি ছিল—দর্পণে প্রতিবিম্বিত মূর্ত্তির অবনত চোখ দুটি ধীরে ধীরে যেন মন্ত্রচালিত হ’য়ে উত্তোলিত হয়ে মন্ত্রমুগ্ধ শিল্পীর প্রতি নিবন্ধ হল—সেই চোখ দুটিতে বিস্ময়ের একটা ক্ষণিক প্রভা যেন মুহূর্ত্তের জন্য খেলে গেল—তার আজীবন সংগোপিত অনন্ত গোপন আকাঙ্ক্ষা আকুলতার আড়াল থেকে দুটি তরুণ চোখ আর দুটি তরুণ চোখের সঙ্গে মিলিত হ’ল—দর্পণের মূর্ত্তি যেন তার রন্ধে রন্ধে একটা পুলক নিয়ে কেঁপে উঠল—শিল্পীর স্নায়ুতে স্নায়ুতে যেন একটা তড়িৎ প্রবাহ চারিয়ে গেল—তার পর নারীর দৃষ্টি অবনত হয়ে গেল—পুরুষের চোখে পলক পড়ল না। দর্পণের মসৃণ গায়ের উপরে মনে হ’ল কে যেন সিঁদূর ঢেলে দিল। অদৃশ্য হস্তের টানে পরদার দর্পণ ঢাকা পড়ল। শিল্পী চমক ভেঙ্গে জেগে উঠল—দেখলে চারিদিক যেন সন্ধ্যার মত মলিন হ’য়ে উঠেছে।

 বাদশা বললেন—“শিল্পী—”

 তরুণ যুবক সংযত স্বরে বললে- জাহাপনা, আমি হিন্দুস্থানের

১৩