রাজন্যবর্গের অনেক অনেক অন্তঃপুর-মহিলাদের দেখেছি, কিন্তু এমন রূপ কখনও আমার নয়নগোচর হয় নি।”
স্মিত হাস্যে বাদশা বললেন—“শিল্পী, যা চোখে দেখলে, তাই যদি চিত্রপটে ফুটিয়ে তুলতে পার, তবে লক্ষ সুবর্ণ মুদ্রা তোমার পুরস্কার।”
শিল্পী উত্তর করলে—“জাঁহাপনা, আমাকে ছয় মাস সময় দিন। আর আমি চাই একটি নির্জ্জন নিভৃত স্থান, অতি নিভৃত, যেখানে বাইরের জগতের রাগ রঙ্গ হাসি অশ্রু আমার প্রাণে কোন ঢেউ-ই তুলবার সুযোগ পাবে না—যেখানে একান্ত ভাবে থাকবে আমি আর আমার আলেখ্য।”
বাদশা উজিরের দিকে ফিরে বললেন—“ফজলু মতিমঞ্জিলে শিল্পীর বাসস্থান নির্দ্দিষ্ট হোক।”
তিন জনে হারেম ত্যাগ করলেন।
আবার তরুণীদের কলকণ্ঠ ফুটে উঠল। তাদের পায়ে পায়ে কত কত লাস্য নিয়ে নূপুর নিক্কণ জেগে উঠল, তাদের হাস্যোচ্ছ্বাস কক্ষে কক্ষে রণিত হ'য়ে উঠল কিন্তু সেদিন সেই হারেমে একটি নিভৃত কক্ষে একটি তরুণীর অন্তরে অন্তরে একটা নবীন স্বপ্নের আভাসে যে একটা নব তন্ত্রী বাজতে লাগল, তার সঙ্গে সেই তুচ্ছ প্রতিদিনকার উদ্দেশ্যহীন হাসি-গানের কোনই মিল রইল না।
(৪)
সসাগরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিত্রকর সে, দেশ বিদেশে কোটা কোটী নর নারীর মুখে মুখে তার নাম ফিরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু সে
১৪