বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।

পড়ল-—সেই স্পর্শে যে সুর বেজে উঠল—সেই সুরে তার আজ একি হয়ে গেল! একি বেদনা, একি আনন্দ! তা ত আজ তার বুঝবারও ক্ষমতা নেই—আজ যে কেমন তার বেদনা আর আনন্দ একেবারে ছড়িয়ে গেছে, দুটোকে আর ত তার আলাদা করবার উপায় নেই—আজ যে কেমন তার মনে হচ্ছে, বেদনা ও আনন্দ—আনন্দ ও বেদনা। মৌকূল, মৌকূল, এতদিন কোন মরুভূমির মধ্যে পিপাসা নিবারণের জন্যে ঘুরে ঘুরে মরছিলে!

 ঐ যে নিগূঢ় গোপন বীণার তারে ঝঙ্কার—কি ঐশ্বর্যময় সে ঝঙ্কার—সেই ঝঙ্কারের সঙ্গে সঙ্গে যে আজ এক নিমেষে সব নিবিড় অর্থপূর্ণ হয়ে উঠল—চোখে যে কিসের অঞ্জন লেগে গেল—এই ধরিত্রীর মাটিতে মাটিতে এত গান, এত সুখ, এত সৌন্দর্য—এই যে মতিমঞ্জিল, ঐ যে তরুশ্রেণী, ঐ যে কুসুমকুঞ্জ, ঐ যে লতাবিজন— সব যেন কেমন উজ্জ্বল কেমন সজীব হয়ে উঠল। শিল্পী, শিল্পী, তুমি এতদিন কোন্ অন্ধ-করা অরণ্যে কেবল মুক্তির পথ খুঁজে মরছিলে!

 দুটি তরুণ চোখ আর দুটি তরুণ চোখ—তাদের মিলনে এমনি রহস্যের সৃষ্টি, এমনি অমৃতের উৎস, এমনি দিকে দিকে পুলক জেগে উঠল, আকাশে বাতাসে হিল্লোল খেলে গেল, জল স্থল রঙিন হয়ে উঠল!

 সে আজ ছবি আঁকবে—নতুন বেগমের। নতুন বেগম! নানা—না—নতুন বেগম কে? তাকে ত সে তেমন করে জানে না তার সঙ্গে ত শিল্পীর কোনই পরিচয় হয় নি। না-না সে

১৬