বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।

মতিমঞ্জিলের নিভৃততম অংশে একটি কক্ষে নিয়ে এল। গোধূলি লগ্নে কক্ষের মধ্যে আঁধার হ'য়ে এসেছে। শিল্পী রৌপ্য-দীপদানে দুটি দীপ জ্বালিয়ে তার চিত্রপটের দু'পাশে রক্ষা করল। চিত্রপটের উপরে পরদা ঢাকা।

 পরদা-ঢাকা চিত্রপটের সামনে এসে বাদশা ও উজির দাঁড়ালেন। শিল্পী ধীরে ধীরে চিত্রপটের উপর থেকে পরদা সরিয়ে নিয়ে এক পাশে এসে দাঁড়াল।

 বাদশার কোষের অসি ঝন্ ঝন্ করে বেজে উঠল, তাঁর হাতের আকর্ষণে খাপ থেকে তা' অর্দ্ধেক বেরিয়ে এল। শিল্পী তৃপ্তির হাস্যে শান্তস্বরে বললে—“জাঁহাপনা, এ আলেখ্য মাত্র।”

 ইরাণ-তুরাণের বাদশা লজ্জিত হয়ে তরবারি আবার খাপে পুরলেন। কণ্ঠ হতে বহুমূল্য মণিহার খুলে শিল্পীর গলায় পরিয়ে দিলেন। তারপর বাদশা আর উজির দুজনে বিস্ময়বিস্ফারিত চোখে আলেখ্যের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এ ত রঙ দিয়ে আঁকা ছবি নয়—এ এ যে মূর্ত্তিমান রক্তমাংসের শরীর! কে বলবে নতুন বেগম আজ বাদশা হুশেন শাহের হারেমে— সে আজ মতিমঞ্জিলের একটি নিভৃত কক্ষে রত্নখচিত সিংহাসনে উপবিষ্টা!

 প্রথম বিস্ময়ের কথঞ্চিৎ উপশমে বাদশা বললেন—“শিল্পী, তোমার শক্তি অলৌকিক, ঐশ্বরিক—লক্ষ সুবর্ণ মুদ্রার পরিবর্তে পাঁচ লক্ষ তোমার পুরস্কার—হিন্দুস্থানের নৃপতিরা না বলে ইরাণতুরাণের বাদশা গুণের আদর করতে জানে না! অর শিল্পী, কাল প্রাতে অনুচরবর্গ নিয়ে কোতোয়াল আসবে, আলেখ্য রাজপ্রাসাদে

১৯