বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।

দিয়ে, সে জাগিয়ে তুলেছে—তাই একজনে একটি মাত্র কথায় চিরদিনের জন্যে তার কাছ থেকে অপসারিত হবে। বাদশার আমদরবারে এই আলেখ্য ঝুলবে, লক্ষ লোকের চোখের তৃপ্তির জন্যে— তার জন্যে রইবে শুধু লক্ষ কণ্ঠে অজস্র বাহবা। শিরা হতে বিন্দু বিন্দু করে রক্ত চুইয়ে বাহবা লাভ! না —না—চাই নে বাহবা, চাইনে লক্ষ দশ লক্ষ কোটী লক্ষ সুবর্ণ মুদ্রা, আমায় ফিরিয়ে দাও— ফিরিয়ে দাও কেবল এই আলেখ্যখানা!

 বাতুল—বাতুল, এই আলেখ্য? কোথায় তোর মানসী কোথায়? ওরে শিল্পী, ওরে মূর্খ মৌকূল, এই আলেখা? তোর মানসী হুশেন শাহের অন্তঃপুরবাসিনী, যে প্রত্যেক নিমেষটিতে বাদশা সূর্য্যের আলোর পর্যন্ত যার মুখ দেখবার অধিকার নেই, এই আলেখ্য? জড় জড়— কেবল রঙ আর রঙ আর রঙ-জড়জড় অতি জড়। জড়? না—না-কে বললে জড়। ওরে নাস্তিক —ঐ যে, ঐ যে বুক দুলছে না কি? ঐ যে চোখের পাতায় অশ্রুবিন্দু কাঁপছে, ঐ যে ঠোঁট দুখানি পাংশু হয়ে উঠল—জড়? নয়—নয় কিছুতেই নয়- ঐ যে দীর্ঘ নিশ্বাসে বুক দমে গেল—ঐ যে ঘাঘরার প্রান্তটা কেঁপে উঠল না কি? পাগল—পাগল এ যে একেবারেই জড় —শক্তিহীন, গতিহীন, ইচ্ছাহীন!

 শিল্পী উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিতে সেই কক্ষতলে বসে আলেখ্যের দিকে অনিমেষ চোখে চেয়ে রইল। ঐ ঠোঁট দু’খানি যদি একবার কেবল একবার মাত্র নড়ে ওঠে, একবার মাত্র ডাকে— “শিল্পী”। ঐ চোখের তারা দুটি যদি কেবল একটিমাত্র নিমেষের জন্যে চঞ্চল

২১