হয়ে ওঠে, যদি—যদি —যদি—আঃ কি নিষ্ঠুর শাণিত তরবারির একটুকু স্পর্শে তার সূক্ষ্ম কোমল স্বপ্নের জাল একেবারে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে অদৃশ্য হ'য়ে গেল, হাওয়ায় মিশিয়ে গেল। শিল্পী নিস্তব্ধ হয়ে বসেই রইল—দণ্ডের পর দণ্ড কেটে যেতে লাগল, সন্ধ্যার আঁধার ধীরে ধীরে নিবিড় কালো হয়ে উঠল, মর্তিমঞ্জিলের বৃক্ষে বৃক্ষে পাখীর ডাক সব নীরব হয়ে গেল, দণ্ডে দণ্ডে প্রহর কাটতে লাগল, শিল্পী ক্লান্ত দেহ মন নিয়ে ধীরে ধীরে কখন নিদ্রাভিভূত হয়ে গালিচার উপরে টলে পড়ল তা জানলও না।
* * * *
এদিকে মধ্যরজনীর নীরবতাকে মুখরতায় ভরিয়ে দিয়ে বাদশা হুশেন শাহর হারেমে মহা উৎসব চলছে। সহস্র দীপালোক রাত্রির অন্ধকার দূর করছে, অথচ তা দিনের একান্ত স্পষ্টতায় কোন দিকেই সমাপ্তি টানে নি—সবই কেমন রহস্যময়, আভাসময় ইঙ্গিতময়। বেলোয়ারী ঝাড়ের ঠুণ্টান, বলয় কঙ্কনের ঠিনি ঠিনি,নূপুর নিক্কনের রিনি-ঝিনি। কত কত রূপসী তরুণী হীরে মণি মুক্তা জহরতে ভূষিত। প্রত্যেক অঙ্গ সঞ্চালনে দীপ-রশ্মি স্পর্শে তাদের সারা দেহ হ'তে যেন তারার টুকরো ছিটিয়ে ছিটিয়ে পড়ছে। তাদের নিবিড় কালো আঁখিতারা হতে অবিরাম ক্ষরিত হচ্ছে অমৃত ও হলাহল, জীবন ও মৃত্যু—ঐ যে দেখা যায় তাদের আবেশবিহ্বল আঁখি পাতে পাতে অঙ্কিত অমরার সিংহাসন আর গভীর গহন রসাতলের বিরাট গহবর।
অসংখ্য তরুণী রূপসী তাদের রূপের ডালি নিয়ে, চটুল চাহনি
২২