“ওগো পরিচিত—কেবলই জল ঝরবে, মেঘ থেকে কেবলই জল ঝরবে, জোছনা আর খেলবে না, ফুল আর ফুটবে না, বুল্ আর ডাকবে না, ওগো তুমি চির-পরিচিত—
“ওঃ”— গান আর শেষ হল না। সহসা নতুন বেগম দু-হাতে বুক চেপে গালিচার উপরে লুটিয়ে পড়ল, তার মুখ পাংশুবর্ণ হয়ে গেছে, চোখের তড়িৎ মলিন হয়ে গেছে।
বাদশা হুশেন শাহ্ চক্ষের পলকে এসে লুণ্ঠিতা, নতুন বেগমের পার্শ্বে নতজানু হয়ে বসলেন—দেখলেন নতুন বেগম অতি কষ্টে নিশ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে। বাদশা শঙ্কিত কণ্ঠে ডাকলেন—“পিয়ারী’ পিয়ারী—”
হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে অতি কষ্টে নতুন বেগম উত্তর দিলে “জাহাপনা” বাঁদীর গোস্তাকি মাপ করবেন। বুকের ভিতরটা হৃপিণ্ডটা যেন কে চেপে চেপে ধরছে”— বেগমের শ্বাস ফুরিয়ে এল, আর কোন কথা ফুটল না।
তৎক্ষণাৎ বাঁদিরা ধরাধরি করে নতুন বেগমকে কক্ষান্তরে নিয়ে গেল, শয্যায় শায়িত করে দিলে, প্রতি মুহূর্তে তার শ্বাসকষ্ট উত্তরোত্তর বর্দ্ধিত হতে লাগল। হাকিমের জন্যে লোক প্রেরিত হল। কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন বেগমের যেন নিশ্বাস প্রশ্বাসের কষ্টের কতকটা উপশম হল, তার মুখ থেকে ধীরে ধীরে যন্ত্রণার চিহ্ন দূরীভূত হয়ে গেল, শাস্তির নিশ্বাস ফেলে নতুন বেগম ধীরে ধীরে চোখ দুটি নিমীলিত করল, ধীরে ধীরে তার রঙিন ঠোঁটে রঙিনতর একটা হাসির রেখা অঙ্কিত হয়ে গেল।
২৪