বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।

দাঁড়িয়ে এক তরুণী! স্তিমিত আলোকে তার মুখ দেখলে, ভয়ে বিস্ময়ে তার মুখ থেকে বেরিয়ে পড়ল —“নতুন বেগম!”

 স্বপ্নময়ী বললে-“শিল্পী নতুন বেগম মরেছে, আমি তোমার

 প্রণয়িনী, এস—রাত আর বেশি নেই—”

 নিমেষে শিল্পীর ঘুমে ঘোর কেটে গেল—তার দেহের প্রত্যেক অণু-পরমাণু জাগ্রত হয়ে উঠল, তার শিরায় শিরায় তড়িৎ চারিয়ে গেল। এত স্বপ্ন নয়-এ যে সত্যি—অতি সত্যি! তৎক্ষণাৎ তরুণ যুবক উঠে দাঁড়াল, তরুণীর হাত ধরে বাইরে এলো। রজনীর শেষ শুকতারা পূর্ব গগনে জ্বল্-জ্বল্ করছিল। সেই শুকতারার আলোকে আলোকে প্রেমিক প্রেমিকা হাত ধরাধরি করে দূর দিগন্তে কোথায় মিশিয়ে গেল।

(৬)

 মানুষের হাজার শোক হোক রাজার রাজকার্য্য বন্ধ থাকে না। পরদিন বাদশা হুশেন শাহ্ কোতোয়ালকে মতিমঞ্জিল থেকে নতুন বেগমের তসবীর আনবার জন্য পাঠালেন। কোতোয়াল অনুচরবর্গ নিয়ে মতিমঞ্জিল উদ্দেশ্যে চললেন। যথাসময়ে ফিরে এসে বাদশা-সমীপে নিবেদন করলেন—“জাঁহাপনা, মতিমঞ্জিলে শিল্পীর সাক্ষাৎ পাওয়া গেল না।”

 বাদশা বিস্মিত হলেন, উজিরকে সঙ্গে নিয়ে মতিমঞ্জিল উদ্দেশে যাত্রা করলেন। এসে দেখলেন শিল্পী অদৃশ্য। শিল্পী যে কক্ষে ছবি আঁকছিল সেই কক্ষে দুজনে প্রবেশ করলেন। দেখলেন

২৬