বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ছোট উপকথা।

 মানুষ ছিল একদিন অতি নির্বোধ, তাই সে তার পাশের সঙ্গিনীটিকে রেখেছিল কৃতদাসী ক’রে। তার পায়ে সে বেঁধে দিয়েছিল লোহার শিকল—এমনি একটু লম্বা যে ঘরের কাজে সে ফদিক ওদিক করতে পারে; কিন্তু বাইরে দৌড়ে ছুটে না পালায়।

 সঙ্গিনীটিও থাকত, ঠিক কৃতদাসীর মতই।

 তার মনের কথা কে জানে? মানুষের কুটীরখানি সে মেজে ঘনে ধুয়ে মুছে চকচকে ঝকঝকে করে রাখত। উঠানে নিজ হাতে তুলসীগাছ গোড়ায় প্রতি সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে সকল অমঙ্গলকে দূরে রাখবার প্রার্থনা জানাত। মানুষের ক্ষুধার আহার জুগিয়ে দিত, তৃষ্ণার জল এনে দিত, পূজোর ফুল সাজিয়ে দিত। মানুষ মনে মনে ভাবত, ও যে আমার জন্যে এত করে, তা আমি না হ’লে ওর চলে না বলে’।

 মানুষের মনের কথা জেনে বিধাতা মনে মনে হাসলেন। তিনি মজা করবার জন্যে একদিন সঙ্গিনীটিকে তাঁর পাশ থেকে সরিয়ে নিলেন'।

 মানুষ সে দিন কুটিরে ফিরে এসে দেখলে যে ক্ষুধার আহার নেই, তৃষ্ণার জল নেই, পূজোর ফুল নেই।

২৮