বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
ছোট উপকথা।

 দেখে মানুষ একেবারে অগ্নিমূর্ত্তি চেঁচিয়ে ঘর মাথায় করলে; কার সঙ্গে কুরুক্ষেত্তর বাধাবে তা খুঁজতে লাগলে। এমন সময় বিধাতা এসে উপস্থিত হলেন। নিতান্ত ভাল মানুষটির মত জিজ্ঞেস করলেন—ব্যাপার কি?

 ব্যাপার কি? মানুষ রেগে বলে উঠল,—ব্যাপার কি? কোথায় গেল আমার সে? ক্ষুধার আহার নেই, তৃষ্ণার জল নেই, পূজোর ফুল নেই, সেই যে সব করত।

 বিধাতা বললেন—কেবল এই?

 মানুষ বললে —তা নয় ত কি!

 বিধাতা বললেন—বেশ তুমি সবই ঠিক ঠিক পাবে। তোমার ক্ষুধার আহার, তৃষ্ণার জল, পূজোর ফুল, সব, কিছুরই ত্রুটি হবে না।

 বিধাতার মন্ত্রগুণে মানুষ সব ঠিক ঠিক পেতে লাগল— তার ক্ষুধার আহার তৃষ্ণার জল পূজোর ফুল—সব ঠিক ঠিক আগেরই মত।

 কিন্তু সঙ্গিনীটি আর ফিরলে না।

 সেই ঠিক ঠিক সবই রইল ক্ষুধার আহার, তৃষ্ণার জল, পূজোর ফুল, কিন্তু সেই সুরটি ত তেমন করে বাজে না। সেই সুরটি—যে সুরটি তার আহার ও পানের মাঝামাঝি বিচ্ছেদটুকুকে পূর্ণ করে রাখত, তার পান ও পূজোর মাঝামাঝি অবসরটুকুকে সন্তোষ আর তৃপ্তি দিয়ে ভরিয়ে দিত। আজ এ যে আহারের পিছনে কেবল আহারই আছে, জলের পিছনে কেবল জল, ফুলের

২৯