পিছনে কেবলই ফুল—মূর্তিমতী নিষ্ঠুরতার মত, ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায়, হৃদয়হীন যন্ত্রের মত আপন আপন কর্তব্য করে যায়।
বাইরের কাজ সেরে মানুষ সেদিন ক্লান্তদেহে তার কুটীরে ফিরে এলো, দেখলে সব ঠিক ঠিক সাজান,—তার ক্ষুধার আহার, তৃষ্ণার জল, পূজোর ফুল।
মানুষের সর্ববাঙ্গ জ্বলে উঠল। কে চায়, কে চায় তোমার এ সব? কে চায়, কে চায় তোমার এই হৃদয়হীন’ বিদ্রূপ? কে চায়, কে চায় তোমার এই যন্ত্রচালিত নির্দয়তা?
লাথি মেরে সে তার সমস্ত খাবার ছড়িয়ে দিল—জলের পাত্র উলটিয়ে দিল, ফুলের রাশি ছয়-নয় ক’রে দিল।
বিধাতা এসে উপস্থিত হলেন, বললেন —আবার ব্যাপার কি?
ব্যাপার কি? মানুষ ক্রুদ্ধস্বরে বললে, —ব্যাপার কি? চায় তোমার এ সব? নিয়ে যাও, নিয়ে যাও তোমার ওই হৃদয়হীন ভোগ-সামগ্রী। আমার তাকে ফিরিয়ে দাও।
বিধাতা হাসলেন। তার সঙ্গিনীটিকে আবার ফিরিয়ে দিলেন।
মানুষ সে দিন তার সঙ্গিনীটির পা থেকে লোহার শিকল খুলে নিয়ে তার হাত দুখানিতে সোনার কাঁকন পরিয়ে দিল, তার গলায় মুক্তাহার দুলিয়ে দিল, তাকে বক্ষে চেপে চুম্বন করে বললে তুমি ত কৃতদাসী নও, তুমি যে পূর্ণা, তুমি অসম্পূর্ণকে পূর্ণ কর, তুমি শূন্যকে সম্পদশালী করে তোল, তুমি কৃতদাসী নও।
সে দিন মানুষ যে ফুল দিয়ে পূজো করতে বসল, সে ফুলের গন্ধে দেবতা জাগ্রত হয়ে উঠলেন।
৩০