একটা অসম্ভব গল্প।
চার বছরের বিয়ে-করা স্ত্রী রেবামিনি যখন আঠার বছর বয়সে সন্ন্যাস রোগে হঠাৎ মারা গেল, তখন আমার মনে হ'ল যেন আমার -বীণায় যে-কটা তার ছিল, সে-কটা একেবারে পট্ পট্ করে ছিঁড়ে গেল। দুঃখ অনুভব করবার মুখটাও আমার আর রইল না।
সন্ধ্যা হয় হয়, এমন সময় শ্মশান থেকে ফিরে এলুম। মনে হল কে আমার হৃদয়-বীণায় তারগুলো আবার চড়িয়ে দিয়েছে। আর সেখানে কে যেন সবগুলো তারে পূরবীর সুর বসিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে বিশাল ক্রন্দনে সকল বিশ্ব সকল চরাচর ডুবিয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যার পাতলা আঁধার বিষাদ মেখে যেন বাদুড়ের পাখার মতো হয়ে উঠেছে। বাতাসে বাতাসে একটা ক্রন্দনের রোল ঘুরে ঘুরে আশ্রয়ের নিষ্ফল সন্ধানে ফিরছে। এ জগতে তার কেউ নেই, কিছু নেই—আছে যেন একটা স্বপ্নের স্মৃতি; কিন্তু সে স্বপ্ন যেন আজ উধাও হ'য়ে চলে গেছে—সৃষ্টির একান্ত বাইরে।
শোবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলুম। এই সেই শোবার ঘর—এ আজ কত মিথ্যা। কিম্বা মিথ্যাও ত নয়, মিথ্যা হ'লেও ত বেঁচে যেতুম। এ যে সত্য মিথ্যার সেই মাঝখানটাতে, যেখানে সত্য আপনার অধিকার ছাড়তে চায় নি আবার মিথ্যাও আপনার পূর্ণ দখল খুঁজে পায়নি।
৩১