টেবিলের উপরে আলো জ্বলছিল। আলনাতে নিত্য ব্যবহারের কোঁচান দুখানা সাড়ী শুঁড়ে শুঁড়ে জড়িয়ে ঝুলচে। টেবিলের উপরে “নৌকাডুবি” বইখানা যতদূর পড়া হয়েছে সেই খানটা একটা চুলের কাঁটা দিয়ে চিহ্নিত হ’য়ে নিতান্ত পরিত্যক্ত ভাবে পড়ে আছে। জড়বস্তুর কি অনুভব করবার ক্ষমতা আছে? আমার ত সেদিন ঠিক সেই রকমই মনে হ’ল। সিঁদূরের কৌটাটি অর্দ্ধেক খোলা অবস্থায় একটা ব্রাকেটের উপরে পড়ে রয়েছে। আমার অন্তর থেকে কণ্ঠের মধ্যে কি যেন একটা বড় ড্যালা ঠিকরে ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইচে। আমি মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে’ বিছানায় মুখ লুকিয়ে চার বছরের শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদলুম।
কিন্তু আপনারা সবাই জানেন যে, যে-ক্ষতি পূরণ হবার কোন দিনই সম্ভাবনা নেই, সে ক্ষতিকে ধরে মানুষ চিরকাল থাকে না। সে ক্ষতির যে দুঃখ সে-দুঃখের বিরুদ্ধে মানুষের অন্তর থেকে একটা সংগ্রাম আপনা হতেই আরম্ভ হ’য়ে যায়। তাই আমারও অন্তরে যে দুঃখ একদিন অতি স্পষ্ট ছিল অতি সত্য ছিল, তা কালের অব্যর্থ প্রলেপে ধীরে ধীরে আবছা হ’য়ে উঠতে লাগল। তারপর এমন একদিন এলো যখন দেখলুম যে রেবামিনির স্মৃতি আছে কিন্তু তার জন্য দুঃখ নেই। আসলে যা রইল তা হচ্ছে অতীতকে নিয়ে একটা সেন্টিমেণ্টালিজ্ম্। আপনারা হয়ত বলবেন, যে-দুঃখ যে-ক্ষতি জীবনে এমন স্পষ্টতম ছিল, সে ক্ষতি সে দুঃখের এমন পরিণাম মানুষের পক্ষে
৩২