বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা অসম্ভব গল্প।

লজ্জাজনক। কিন্তু মনে রাখবেন আমি আপনাদের উপন্যাস বলতে বসি নি—যা সত্যিই ঘটেছে তাই বলছি।

 সে যা হোক্, রেবামিনি মারা যাওয়ার মাস আষ্টেক পর যখন মা আমায় আবার বিয়ে করবার জন্যে ধরে বসলেন, সে সময়ে আমার অন্তরে বিয়ে করা সম্বন্ধে এমন একটা জোরের “না” ছিল না, যা সে-অনুরোধের বিরুদ্ধে খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য আমার বিয়ে করবার আগ্রহ যে একটুও ছিল, তা নয়। তবে আমি বিয়ে করলে মা যে সুখী হবেন এটা জানতুম। সুতরাং যেটার সম্বন্ধে আমার নিজের মনে একটা প্রবল “না” ছিল না, অথচ যেটা করলে মা সুখী হবেন—মার সে অনুরোধে আমি “হাঁ” “না” কিছুই করলুম না। মা-ও ‘মৌনং সম্মতি লক্ষণং ধরে নিয়ে আমার দ্বিতীয় গৃহিণীর সন্ধানে লাগলেন। বাঙলা দেশে আর যারই অভাব হোক্ না কেন, আঠার থেকে আশী বছর পর্য্যন্ত যে-কেউ বিয়ে করতে চাক্‌ না কেন, কারোরই মেয়ের অভাব হয় না। আর বিশেষত আমার বয়েস ত তখন সবে আটাশ। ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই চঞ্চলার সঙ্গে আমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হ’য়ে গেল।

 বাঙালীর সমাজে পুরুষ নারীর মধ্যে এমন একটা কঠিন যবনিকার ব্যবধান আছে, যাতে করে বাঙালী তরুণ-তরুণী পর’স্পরের কাছে যেমন রহস্যময় ও রহস্যময়ী, পৃথিবীর আর কোন দেশে তেমন নয়। বাঙলার নব দম্পতীর মধ্যে এই যবনিকাটি কতকটা অপসারিত হয়—শুভদৃষ্টির সময়ে নয়, বাসর ঘরে নয়,

৩৩