বিয়ের সময়কার শত কোলাহলের মধ্যে নয়—সেটা হয় তাদের প্রথম রজনীর নিরালা মিলনে—প্রথম রজনীর সম্ভাষণে। সেদিন দূর কাছে আসে, রহস্য উন্মুক্ত হ’য়ে দৃষ্টির অতি নিকটে আসে— যা এতদিন চোখে পর্য্যন্ত দেখা যায় নি, তা একেবারে স্পর্শের সীমায় এসে পড়ে। সেই জন্যে এই রজনীটি বাঙালী তরুণ তরুণীর পক্ষে আশায় আকাঙ্ক্ষার কৌতূহলে একেবারে পরিপূর্ণ।
আমার পুরুষের প্রাণ নারীর জন্যে অবশ্য তেমন সজাগ ছিল না, কেননা সে প্রাণের তন্ত্রী নারীর স্পর্শে একবার বেজে উঠেছিল, সেখানে আর সেই একই কারণে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টির সম্ভব ছিল না। কারণ, মানুষের জীবনে একই বিষয়ের অনুভব দ্বিতীয়বার তেমন তীব্র ও তেমন তীক্ষ্ণ হয় না। অজ্ঞাত যা তার সম্মোহন যতটা, জ্ঞাত যা দখলে এসেছে, একবার যা জেনেছি তার মাদকতা ততটা নয়।
কিন্তু তাই বলে ঐ যে একটি জীব যার সঙ্গে আমার চিরজীবনের সম্বন্ধ, তার সম্বন্ধে যে আমার কোনই কৌতুহল ছিল না, এটা যদি আপনারা মনে করেন, তবে আপনাদের পক্ষে মানুষের চিরন্তন প্রকৃতিকেই অস্বীকার করা হবে। তাই সেদিন যখন রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে পান চিবুতে চিবুতে শোবার ঘরে একখানা ঈজিচেয়ারে হেলান দিয়ে একখানা বাঙলা মাসিকের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে তার গালাগালির বহরটা একবার নির্ণয় করতে ব্যাপৃত ছিলুম, তখন যখন বাহিরের বারান্দা থেকে মলের একটা সলজ্জ টিনি
৩৪