টিনি শব্দ আমার কাণে এসে বাজল, তখন আমার মনটা “মোহমুদ্গারের” শ্লোক আওড়াবার জন্যে মোটেই ব্যস্ত হয়ে উঠল না। এমনি সময়ে এমনি অবস্থায় ওমনি মলের শব্দ আরও একদিন আমার শোবার ঘরের সামনে ওমনি সলজ্জ হ’য়েই বেজেছিল; কিন্তু সেদিন ওই শব্দ শুনে আমার বুকের বাঁ পাশটা একেবারে অচেতন ছিল না, সেদিন ঐ মলের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে আমার সামনে একটা নূতন জগতের রুদ্ধ কবাট অর্গলমুক্ত হবার আয়োজন করছিল। কিন্তু আজ আমার ও-জগতের সকল গানই শোনা হয়ে গেছে, আজ আবার নূতন একজন, যিনি গীত বহন করে' আমার হৃদয়ের দ্বারে আসছেন, জানি তাঁর সে গীতের সঙ্গে আমার সে শোনা গানের কোনই প্রভেদ থাকবে না—শব্দেও নয়, অর্থেও নয়, সুরেও নয়—যদি কিছু প্রভেদ থাকে ত, সে একমাত্র তালের।
মলের শব্দ ধীরে ধীরে আমার শয়ন-কক্ষের দরজার পাশে এসে থামল, সঙ্গে সঙ্গে একটা সুগন্ধি কেশ-তৈলের মৃদু স্নিগ্ধ ও মিষ্ট গন্ধ আমার ঘরটার ভিতরে চারিয়ে গেল, আমার নির্জীব ঘরটা যেন জেগে উঠল, আমিও সজাগ হয়ে ঈজি চেয়ারের উপরে উঠে বসলুম।
ঘরের দরজার পাশে মলের শব্দ থামার সঙ্গে সঙ্গে চুপি চুপি কি কথা আরম্ভ হ'য়ে গেল। বুঝলুম যে নববধূ একা আসেন নি। পরক্ষণে চঞ্চলাকে আমার ঘরের মধ্যে ঠেলে দিয়ে আমার ছোট বোন স্বর্ণ দুষ্টোমির হাসি হেসে বললে—“দাদা, এই রইল তোমার বউ, বুঝে পড়ে নাও, যে লজ্জা মা গো মা!” সঙ্গে সঙ্গে আমার দরজাটাও বাহির থেকে সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।
৩৫