বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ইরাণী উপকথা - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯২০).pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইরাণী উপকথা।
একটা অসম্ভব গল্প।

 চঞ্চলার প্রতি আমার দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণ হবামাত্র আমার বুকের মধ্যে সজোরে কি একটা টক্ করে উঠল। একটা আনকোরা স্প্রিংকে দাবিয়ে রেখে চট্‌ করে ছেড়ে দিলে সেটা যেমন লাফিয়ে ওঠে তেমনি করে’ আমি চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠলুম। কে ও? কে ও? চঞ্চলা? না—না—ও তো রেবামিনি! এমনি প্রায় পাঁচ বছর আগে ওমনি একখানি গোলাপী রঙের শাড়ী পরে’ অমনি বুকে অবগুণ্ঠন টেনে ওমনি ভঙ্গীতে ওমনি করে আমার শোবার ঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিল। চঞ্চলা? না—না—ও যে একেবারে হুবহু রেবামিনি—আমারই মিনি। আমি দৌড়ে গিয়ে মিনিকে তুলে নিলুম, তাকে বুকে করে’ আলোর কাছে নিয়ে এলুম, একটানে মাথার ঘোমটা ফেলে দিলুম, তারপর তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলুম, না না, এ মিনি নয়, এ আর কেউ, আমি পাগলের মতো তৎক্ষণাৎ তাকে আলিঙ্গনমুক্ত করে দিলুম, এমনি করে তাকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে দিলুম যে, চঞ্চলা তাল সামলাতে না পেরে একেবারে সঙ্গেরে টেবিলের উপরে পড়ে গেল, সঙ্গে সঙ্গে আলোটা উল্টে পড়ে’ দপ্ করে নিভে গেল—আমি বাগানের দিককার দরজাটা খুলে বাইরে গিয়ে বাগানের একটা পাথরের বেঞ্চির উপরে বসে পড়লুম। আমার ভিতরে তখন আগুন ছুটছে, শরীরের উপরে ঘাম ছুটছে। আমি তখন কে? শ্রীরামপুরের নবীন জমিদার ঐ বিভূতিরঞ্জন রায়? না—আমি তখন একজন বদ্ধ পাগল, আমার আসল জায়গা হচ্ছে পাগলা গারদে।

 কেমন করে কোথায় দিয়ে রাত কেটে গেল! যখন বাহ্য প্রকৃতির

৩৬